০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়েক!
পশ্চিমবঙ্গ

সরকারি জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়েক!

Share
Share

সরকারি জমি বেআইনিভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়েক। শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাঁকে কাঁথি এসিজেএম আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি জমি অবৈধভাবে লিজ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমেই এই গ্রেপ্তার। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী পুরসভার মালিকানায় না থাকা জমি কাউকে লিজ দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট আকলাবাদ মৌজায় নরপুকুর বাজার নামে পরিচিত একটি সরকারি জমি ২০ বছরের মেয়াদে এক ঠিকাদারকে লিজ দেওয়া হয়। অথচ ওই জমির মালিকানা ভূমি দপ্তরের হাতে ছিল। ভূমি দপ্তর থেকে এগরা পুরসভাকে কখনওই ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল ট্রান্সফার (IDT) দেওয়া হয়নি। ফলে আইনত ওই জমি লিজ দেওয়া সম্ভব ছিল না। অভিযোগ, সমস্ত নিয়ম উপেক্ষা করেই এই লিজ দেওয়া হয়, যার ফলে সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনায় গত ২০ ডিসেম্বর এগরা ১ নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক স্বপনকুমার নায়েকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় এবং শুক্রবার রাতে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় রাজনৈতিক টানাপোড়েনও চরমে ছিল। গত ৯ নভেম্বর দলীয় নির্দেশে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হলেও তিনি তা মানেননি। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়। গত ২০ ডিসেম্বর অনাস্থা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা ভেস্তে যায়। অভিযোগ, ওই দিন ভোররাতে বিজেপির পাঁচজন ও কংগ্রেসের একজন কাউন্সিলারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পুরসভা অফিসে প্রবেশ করেন, যা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

এরপর এগরা পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে গা-ঢাকা দেন স্বপনবাবু। সেই সময় তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। অবশেষে শুক্রবার রাতে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

শনিবার কাঁথি এসিজেএম আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে এই মামলায় পুরসভার অন্য কোনও আধিকারিক বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *