25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
রাত ১১:৩৫:০০
Home Uncategorized রাতে ডেকে নিয়ে খুন! সংখ্যালঘু নিধনের নতুন শিকার দাগনভূঞার সুমিত দাস !
Uncategorized

রাতে ডেকে নিয়ে খুন! সংখ্যালঘু নিধনের নতুন শিকার দাগনভূঞার সুমিত দাস !

Share
Share

দাগনভূঞা প্রতিনিধি | Hidden Stories News

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যার অভিযোগের মধ্যেই ফের এক হিন্দু যুবকের নৃশংস মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। ফেনীর দাগনভূঞায় সুমিত দাস (২৯) নামে এক হিন্দু অটোরিকশা চালককে পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু নিধনের ধারাবাহিকতার আরেকটি উদাহরণ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা থানার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর এলাকার মুহুরী বাড়ির পাশে পাকা রাস্তা সংলগ্ন একটি নিচু জমি থেকে সুমিত দাসের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে মাথা, মুখ ও বুকে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত সুমিত দাস মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর ফাজিলের ঘাট জেলে বাড়ির বাসিন্দা। তিনি কার্তিক দাসের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত প্রায় ৮টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে ভাড়ার কথা বলে সুমিতকে অটোরিকশাসহ বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় কোনও খোঁজ না পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

নিহতের মা রিনা রানী দাসের অভিযোগ, এটি কোনও ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থল থেকে অটোরিকশা, নগদ টাকা, গলার চেন কিংবা সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল—কোনও কিছুই খোয়া যায়নি। বরং ফোনের কল হিস্ট্রি মুছে ফেলা হয়েছে। পরিবারের প্রশ্ন, যদি ডাকাতিই উদ্দেশ্য হত, তবে মূল্যবান সামগ্রী অক্ষত থাকল কেন? তাহলে কেনই বা ভাড়ার ফোন করে সুমিতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হল?

স্থানীয় জেলে পাড়ার বাসিন্দারা জানান, ছোটবেলা থেকেই সুমিত দাস শান্ত, ভদ্র ও নিরীহ যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা বা ঝামেলার কথা শোনা যায়নি। প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করেছিলেন তিনি। রেখে গিয়েছেন স্ত্রী ও দুই বছরের এক শিশু সন্তানকে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা ও হত্যার খবর সামনে আসছে। সেই প্রেক্ষিতে দাগনভূঞার এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ অনেকে। তাঁদের আশঙ্কা, সংখ্যালঘু পরিচয়ই কি ধীরে ধীরে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে?

এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল আজিম নোমান জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ, পিবিআই ও সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা তদন্তে নেমেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিবার ও সংখ্যালঘু মহলের দাবি—শুধু আশ্বাস নয়, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই ধারাবাহিক রক্তপাতের অবসান ঘটাতে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *