25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, ভুয়ো নথির ফাঁদে তিন বছরের জেল বাংলাদেশি যুবকের
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেমের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, ভুয়ো নথির ফাঁদে তিন বছরের জেল বাংলাদেশি যুবকের

Share
Share

কলকাতা: প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিলেন এক বাংলাদেশি যুবক। সেই প্রেমই শেষ পর্যন্ত তাঁকে পৌঁছে দিল কারাগারে। রায়গঞ্জ জেলা আদালতের এডিজে ফার্স্ট কোর্ট বুধবার তারেক মহম্মদ নামে ওই যুবককে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার সাজা শোনায়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:6282]

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারেকের বাড়ি বাংলাদেশ-এর ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর এলাকায়। গত বছরের মার্চ মাসে রায়গঞ্জের ভাটোল এলাকার নোনাব্রিজ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে তাঁকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ভারতে থাকার কোনও বৈধ নথিপত্র তাঁর কাছে নেই। পরে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করে এপ্রিল মাসে চার্জশিট দাখিল করে ভাটোল থানার পুলিশ।

[TECHTARANGA-POST:6278]

মামলা চলাকালীন রায়গঞ্জে থাকা তারেকের কয়েকজন আত্মীয় তাঁকে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও জন্মশংসাপত্র আদালতে পেশ করেন। কিন্তু নথি যাচাই করতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জন্মশংসাপত্রে যাঁদের বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়েছিল হাসেন আলি ও রুকসানা বিবিকে, তাঁরা লিখিতভাবে জানান—তারেক তাঁদের সন্তান নন। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতও জানিয়ে দেয়, ওই জন্মশংসাপত্র তারা ইস্যু করেনি।

বিচারকের নির্দেশে হাসেন আলি ও রুকসানা বিবিকে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে হাজির করা হলে এজলাসেই তাঁরা তারেককে সন্তান হিসেবে অস্বীকার করেন। এর পরেই ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ হয় এবং মামলা এডিজে ফার্স্ট কোর্টে পাঠানো হয়। বিচারক রোহন সিনহা ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪(এ)(বি) ধারায় তারেককে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন।

সরকারি আইনজীবী স্বরূপ বিশ্বাস জানান, আদালতে পেশ করা সমস্ত ভারতীয় পরিচয়পত্রই ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি রায় ঘোষণার পরেও অনুতাপের লেশমাত্র ছিল না ধৃতের মুখে। হাসতে হাসতে সে বলে, “প্রেম করতে এসেছিলাম।”

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *