25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized জোট নয়, একলা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের: ছাব্বিশে বাংলায় ২০% ভোটের টার্গেট, ৩০ আসনের স্বপ্ন
Uncategorized

জোট নয়, একলা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের: ছাব্বিশে বাংলায় ২০% ভোটের টার্গেট, ৩০ আসনের স্বপ্ন

Share
Share

কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে হাই কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে গেল দলের রাজনৈতিক রণকৌশল। সিদ্ধান্ত হয়েছে—ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাম বা তৃণমূল, কারও সঙ্গেই জোটে যাচ্ছে না কংগ্রেস। একলা লড়াইই হবে দলের পথ।

এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, তাঁর সামনেই কংগ্রেসের ভোট-লক্ষ্যমাত্রা ও আসন-হিসাব চূড়ান্ত করা হয়।

কী লক্ষ্য কংগ্রেসের?

প্রদেশ নেতৃত্ব হাই কমান্ডকে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ভোট শতাংশ প্রায় ৫ শতাংশ। আগামী বিধানসভা ভোটে সেই ভোট ২০ শতাংশে উন্নীত করাই মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কৌশল সাজাতে বলা হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে।

কতগুলি আসনে আশাবাদী কংগ্রেস?

বৈঠকে আসনসংখ্যা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী— প্রায় ৬৫টি আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা রয়েছে, ন্যূনতম ৫–৭টি আসন জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা, আর ফল খুব অনুকূলে গেলে ২৫–৩০টি আসনেও জয় পেতে পারে কংগ্রেস—এমন দাবিও উঠে এসেছে বৈঠকে।

বামেদের সঙ্গে জোটে না কেন?

বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রদেশ কংগ্রেস স্পষ্ট জানায়— বামেদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস কোনও ভোট-লাভ করতে পারছে না। বামেদের ভোট কংগ্রেসে ট্রান্সফার হচ্ছে না বলেই দাবি রাজ্য নেতৃত্বের। এই যুক্তির ভিত্তিতেই হাই কমান্ড জোট না করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়।

এরপর সেই বার্তা সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন বামেদের প্রতিক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের সঙ্গেও নয়

বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। দেশের রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূলের অবস্থান কাছাকাছি হলেও, এই রাজ্যে জোটের সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে যায়।

রাহুল গান্ধী জানতে চান, তৃণমূলের তরফে কোনও বার্তা এসেছে কি না। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং প্রদেশ ইনচার্জ গুলাম আহমেদ মীর জানিয়ে দেন—এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। এরপরই রাহুল গান্ধী “একলা চলার” বার্তা দেন এবং স্পষ্ট করেন, কারও জন্য অপেক্ষা করবে না কংগ্রেস।

সব মিলিয়ে, জোট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব শক্তিতে ভোটযুদ্ধে নামার ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু স্পষ্ট রাস্তাই বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। এই কৌশল বাংলায় দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, না কি ভোট আরও কমবে—তার উত্তর মিলবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটেই।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *