25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
রাত ১১:৩৫:০০
Home Uncategorized রাশিয়ায় ভারতীয় পড়ুয়াদের ওপর নৃশংস হামলা! নাৎসি স্লোগান দিয়ে হস্টেলে তাণ্ডব ১৫ বছরের কিশোরের
Uncategorized

রাশিয়ায় ভারতীয় পড়ুয়াদের ওপর নৃশংস হামলা! নাৎসি স্লোগান দিয়ে হস্টেলে তাণ্ডব ১৫ বছরের কিশোরের

Share
Share

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুদূর রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে চরম নৃশংসতার শিকার হলেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। বাশকোর্তোস্তান প্রদেশের উফায় স্টেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে ঢুকে চার ভারতীয় ছাত্রকে এলোপাথাড়ি ছুরি মারল এক কিশোর। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হামলার সময় ওই কিশোর ক্রমাগত ‘নাৎসি’ স্লোগান দিচ্ছিল এবং জখম পড়ুয়াদের রক্ত দিয়ে হস্টেলের দেওয়ালে এঁকেছে ‘স্বস্তিকা’ চিহ্ন।

শনিবার সকালে উফায় স্টেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের হস্টেলে আচমকা ঢুকে পড়ে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ভারতীয় পড়ুয়াদের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হামলার সময় হস্টেল চত্বর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। চার ভারতীয় পড়ুয়া গুরুতর জখম হন। শুধু পড়ুয়ারাই নন, অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে জখম হয়েছেন দুই পুলিশ আধিকারিকও। অভিযুক্ত কিশোর নিজেও ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছে।

তদন্তে উঠে আসছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ধৃত কিশোর ‘ন্যাশনাল সোশ্যালিজ়ম’ বা ‘হোয়াইট পাওয়ার’ নামক একটি নিষিদ্ধ নব্য-নাৎসি সংগঠনের সদস্য। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এই সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করেছিল। হামলার সময় কিশোরটি ‘হলোকস্ট’-এর সমর্থনে এবং ইহুদি-বিদ্বেষী স্লোগান দিচ্ছিল। দাবি করা হচ্ছে, আহত পড়ুয়াদের শরীর থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত দিয়েই দেওয়ালে ‘স্বস্তিকা’ চিহ্ন এঁকেছে সে।

রুশ স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আহত চার ভারতীয় পড়ুয়াই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বাকি তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও ট্রমার মধ্যে রয়েছেন তারা। হামলাকারী কিশোরকেও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি) দেখা গিয়েছে, বরফে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর দিয়ে পুলিশ হামলাকারীকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছেন। আহত পড়ুয়াদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা এবং আইনি সাহায্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট করেনি রুশ প্রশাসন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *