কলকাতা: বসন্তের রঙের উৎসব দোলযাত্রা পেরোলেই কি বাংলায় শুরু হয়ে যাবে ভোটের মহোৎসব? নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়েই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ‘এক দফা’র ভোট। সূত্রের খবর, দীর্ঘ কয়েক বছরের একাধিক দফার প্রথা ভেঙে এবার এক বা দুই দফাতেই ভোট প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে প্রস্তুত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর।
রাজ্যের ভোট প্রস্তুতির প্রধান ভিত্তি হল ভোটারতালিকা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটারতালিকা প্রকাশিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। যার জেরে শুনানির কাজ চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং নথি পরীক্ষা চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তারপর চূড়ান্ত ভোটারতালিকা প্রকাশের পরই কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পথে হাঁটবে।
২০২১ সালে রেকর্ড ৮ দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু, এবার দিল্লির নির্বাচন সদনের কাছে সিইও দফতর এক দফায় ভোট করানোর প্রস্তাব দিতে পারে বলে খবর। সূত্রের দাবি, কমিশন পরামর্শ চাইলে সিইও দফতর থেকে জানানো হবে যে, তারা এক দফাতেই ভোট পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে এই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাজ্যে মোতায়েনযোগ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার উপর।
[TECHTARANGA-POST:6399]
এই প্রেক্ষাপটে ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১ মার্চ রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই দলটির সফরের মূল উদ্দেশ্যগুলি হল, রাজ্যের সব ডিইও (DEO), পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বুথ স্তরের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা। এবং এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করা।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আগামী ৭ মে-র মধ্যে রাজ্যে নতুন বিধানসভা গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেব মাথায় রেখেই কমিশনের পরিকল্পনা এপ্রিলের মাঝামাঝি ভোট নেওয়া এবং মে মাসের শুরুতেই ফলাফল ঘোষণা করার কথা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে দোলের ছুটির পরই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে।
Leave a comment