25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized সংখ্যালঘু পল্লীতে হামলা-আগুন! হিংসা ছড়িয়ে ভয় দেখাতে চাইছে জামায়াত?
Uncategorized

সংখ্যালঘু পল্লীতে হামলা-আগুন! হিংসা ছড়িয়ে ভয় দেখাতে চাইছে জামায়াত?

Share
Share

নীলফামারী (বাংলাদেশ): বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসন এলাকা। নির্বাচনে সমর্থন এবং ভোট প্রদান নিয়ে বিরোধের জেরে এই এলাকার একটি সংখ্যালঘু পল্লিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো এবং স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত একটি যান্ত্রিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে। বিএনপি প্রার্থী মৌলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর ছোট ভাইয়ের একটি প্রাইভেট কার বিকল হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটি যখন মেরামত করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই মোটরসাইকেলে করে জামায়াতের একদল কর্মী সেখানে এসে আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির প্রতিবাদ করতে এবং বাধা দিতে এগিয়ে এলে জামায়াত কর্মীরা তাঁদের উপর চড়াও হন। বচসা চলাকালীন উত্তেজিত জামায়াত কর্মীরা সংখ্যালঘু পল্লীর বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।

হামলার শিকার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই হিংসার মূলে রয়েছে নির্বাচনী সমীকরণ। তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই আভাস পেয়েই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিয়োয় এক বাসিন্দাকে বলতে শোনা যায়, “সংখ্যালঘুরা কাকে ভোট দেবে এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জামায়াতকে ভোট দেবে না বলাতেই এই হামলা। এখনই যদি এদের এই আচরণ হয়, তবে ভোটে জিতলে কী করবে?”

আরও এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিএনপি প্রার্থীর ভাই ভোট চাইতেও আসেননি। শুধু তাঁর ভাইয়ের গাড়ি সারাই করা হচ্ছিল। তারপরও জামায়াতের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং সংখ্যালঘু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ প্রমাণ করে যে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কট্টরপন্থী ও হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির কদর্য রূপটি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নেই বিএনপিও। বিএনপি প্রার্থীর ভাইয়ের গাড়িকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হলেও, জোট বা নির্বাচনী রাজনীতির জটিলতায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বড় দলগুলি। সমালোচকদের মতে, জামায়াতের এই পেশিশক্তির আস্ফালন এবং সংখ্যালঘুদের উপর চড়াও হওয়ার ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনে একটি অশুভ সঙ্কেত। বিএনপি নেতৃত্ব কেন তাদের মিত্র বা প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এই তাণ্ডব রুখতে আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে পারল না, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ রওশন কবীর পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিলেও ঘরবাড়ি হারানো সংখ্যালঘু পরিবারগুলি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক বড় লজ্জা হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *