25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized ভারতকে টেক্কা দিতে ট্রাম্পের শর্তে ঘাড় কাৎ ইউনূসের! কপাল পুড়ল বাংলাদেশের?
Uncategorized

ভারতকে টেক্কা দিতে ট্রাম্পের শর্তে ঘাড় কাৎ ইউনূসের! কপাল পুড়ল বাংলাদেশের?

Share
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই আমেরিকার সঙ্গে এক ঐতিহাসিক অথচ বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বস্ত্র রফতানির বাজারে ভারতকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে মরিয়া ঢাকা এই চুক্তিতে সায় দিলেও, তার বিনিময়ে আমেরিকাকে দিতে হয়েছে নজিরবিহীন বাণিজ্যিক ছাড়। নতুন এই চুক্তির ফলে ৬ হাজারেরও বেশি মার্কিন পণ্যে আমদানিশুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ!

আমেরিকা ও বাংলাদেশের এই বাণিজ্যচুক্তি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঢাকাকে চড়া মূল্য চোকাতে হচ্ছে। বিতর্কিত এই চুক্তির শর্তগুলি হল –

তৎক্ষণাৎ শুল্ক লোপ: ৪,৫০০টি মার্কিন পণ্যের উপর আমদানিশুল্ক এখনই শূন্য করে দিচ্ছে বাংলাদেশ। চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

ধাপে ধাপে ছাড়: আরও ২,২১০ ধরনের পণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক তুলে নিতে হবে। এর মধ্যে ১,৫৩৮টি পণ্যে প্রথম দিন ৫০% শুল্ক কমবে এবং পরবর্তী চার বছরে বাকিটা শূন্য হবে। ৬৭২টি পণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া চলবে ১০ বছর ধরে।

অশুল্ক বাধা দূর: মার্কিন পণ্য যাতে অন্য কোনও দেশের পণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা।

আমেরিকার এত বিশাল দাবি মেনে নেওয়ার বদলে বাংলাদেশের ঝোলায় কী এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা।

সামান্য শুল্ক হ্রাস: বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করতে রাজি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অর্থাৎ ছাড় মাত্র ১ শতাংশ।

বিশেষ ছাড়: বাংলাদেশের ১,৬৩৮ ধরনের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক নেওয়া হবে না, সেখানে স্বাভাবিক মার্কিন আমদানিশুল্ক (১৬-১৭%) কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ে বড়সড় ঘাটতি দেখা দেবে। গত অর্থবর্ষে আমেরিকা থেকে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ, যা থেকে আমদানিশুল্ক বাবদ রাজস্ব এসেছিল প্রায় ৭৬২ কোটি টাকা। নতুন চুক্তিতে এই রাজস্বের একটা বড় অংশই (প্রায় ৩৮ শতাংশ) হারাতে চলেছে ঢাকা। তবে ভ্যাট, অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর আগের মতোই নেওয়া যাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষত তৈরি পোশাক বা বস্ত্র রফতানিতে ভারতের বাজার দখল করতেই এই পদক্ষেপ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এই বড় বাণিজ্যিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে, নিজস্ব রাজস্বের বিশাল অংশ বিসর্জন দিয়ে ভারতকে টেক্কা দেওয়ার এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *