25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘খুন হতে পারি!’ বাড়ির সামনে সশস্ত্র অচেনা মুখের আনাগোনা, প্রাণভয়ে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন ভাঙড়ের কাইজার
পশ্চিমবঙ্গ

‘খুন হতে পারি!’ বাড়ির সামনে সশস্ত্র অচেনা মুখের আনাগোনা, প্রাণভয়ে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন ভাঙড়ের কাইজার

Share
‘খুন হতে পারি!’ বাড়ির সামনে সশস্ত্র অচেনা মুখের আনাগোনা, প্রাণভয়ে পুলিশি নিরাপত্তা চাইলেন ভাঙড়ের কাইজার
ছবি সংগৃহীত
Share

ভাঙড়: “যে কোনও মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারি!”—ঠিক এই আশঙ্কায় এবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো ভাঙড়ের রাজনৈতিক মহলে। বাড়ির সামনে অস্ত্র নিয়ে অচেনা লোক ঘোরাঘুরি করছে, এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ। তাঁর দাবি, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর বাড়ির সামনে অত্যন্ত সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। সাধারণত ওই সময়েই তিনি বাড়ি থেকে বেরোন, তবে ঘটনার দিন সকাল সাড়ে আটটাতেই বেরিয়ে যাওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। পরে বাড়ি ফিরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই বিষয়টি তাঁর নজরে আসে এবং তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যে রীতিমতো ‘রেকি’ করা হচ্ছিল। এই ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ-সহ ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নিজের ও পরিবারের জন্য কড়া পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:9320]

তৃণমূলের অন্দরে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা এবং কাইজারের দীর্ঘদিনের বিবাদ সর্বজনবিদিত। কাইজার আহমেদ নিজেই জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সালের পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগ নেই, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগ করেননি। এবারের নির্বাচনে তিনি সওকতের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছিলেন এবং ভাইজান নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ-এর হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে খেটেছেন। নির্বাচনের পর আইএসএফ-এর বিজয়মিছিলেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। কাইজারের আশঙ্কা, নওশাদের হয়ে কাজ করার ফলেই এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পর তৃণমূলের এক শ্রেণির দুষ্কৃতী আইএসএফ-এর নাম ভাঁড়িয়ে ভাঙড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে, আর তার বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে গুলি চালাতেই ওই ভাড়াটে গুন্ডারা তাঁর বাড়ির চারপাশে চক্কর কাটছিল বলে তাঁর দাবি।

[TECHTARANGA-POST:9319]

উল্লেখ্য, প্রাণনাশের আশঙ্কা কাইজারের এই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও তিনি সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তাঁকে খুন করার জন্য সুপারি কিলার বা ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা হয়েছে। অতীতেও তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে এবং একাধিকবার খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে অতীতের সেই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে বুধবারের এই ‘রেকি’র গভীর সংযোগ রয়েছে বলেই মনে করছেন এই নেতা। আপাতত ভাঙড় থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ভাঙড়ের আকাশে-বাতাসে এখন একটাই প্রশ্ন—ভোট মিটলেও কাইজ়ার আহমেদের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর ভাঙড়ের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির জল এবার কোন দিকে গড়ায়?

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *