25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা দালালরাজ বরদাস্ত নয়! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরকারি হাসপাতালে চালু হচ্ছে ‘রঙিন’ আই-কার্ড
কলকাতা

দালালরাজ বরদাস্ত নয়! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরকারি হাসপাতালে চালু হচ্ছে ‘রঙিন’ আই-কার্ড

Share
দালালরাজ বরদাস্ত নয়! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই সরকারি হাসপাতালে চালু হচ্ছে 'রঙিন' আই-কার্ড
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: রাজ্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্রের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ ঠেকাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনওপ্রকার দুর্নীতি বা দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। সেই কড়া নির্দেশের ওপর ভিত্তি করেই এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের বিশেষ পরিচয়পত্র (আই-কার্ড) বাধ্যতামূলক করতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। এই সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট সার্কুলার বা নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9460]

স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা এই নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল এবং কলকাতা পুলিশ হাসপাতাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র ছাড়া এখন থেকে কোনও কর্মী বা আধিকারিক হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

[TECHTARANGA-POST:9459]

হাসপাতালের অন্দরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং কে কোন বিভাগের কর্মী তা দূর থেকেই চিনে নিতে কর্মীদের পদ অনুযায়ী ভিন্ন-ভিন্ন রঙের আই-কার্ডের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ল্যাবরেটরিতে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের আই-কার্ড হবে কমলা রঙের। এছাড়া, সহকারী অধ্যাপকরা বেগুনি রঙের, প্রশাসনিক কর্মীরা কালো, নার্সরা খয়েরি, নিরাপত্তাকর্মীরা মেরুন এবং হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা সবুজ রঙের কার্ড পাবেন। একইভাবে, যাঁরা হাসপাতালে ঝাড়পোঁছ করেন সেই সাফাইকর্মীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে হলুদ রঙের পরিচয়পত্র এবং আউটসোর্সিংয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নীল রঙের আই-কার্ড পরতে হবে। সামগ্রিক কর্মীদের ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, প্রশাসনিক কর্মী, প্যারা-মেডিক্যাল, জিডিএ এবং অন্যান্য (ড্রাইভার-সহ) বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9458]

এই নয়া প্রকল্পটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সামগ্রিক সমন্বয়ের জন্য হাসপাতালের প্রতিটি ভবনের দায়িত্বে একজন করে ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিচয়পত্র তৈরি ও নথিভুক্তির কাজ যাতে প্রযুক্তিগত বাধা ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে, তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ এবং একটি সুসজ্জিত অফিস ডেস্কের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কারিগরি সমস্যা মোকাবিলায় সর্বক্ষণ উপস্থিত থাকবেন ওয়েবেল থেকে নিযুক্ত বিশেষ আইটি কর্মীরা।

[TECHTARANGA-POST:9457]

আজ সোমবার, ২৫ মে থেকেই সমস্ত সরকারি হাসপাতালে এই নতুন ডিজিটাল পরিচয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন হাসপাতাল চত্বরে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত ভিড় না হয়, তার জন্য বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হবে। স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ২৮ মে-র মধ্যে এই সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। চিকিৎসকদের সুরক্ষাবলয় মজবুত করতে এবং চিকিৎসা পরিষেবা স্বচ্ছ রাখতে এই পদক্ষেপ এক যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *