25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা তালাবন্ধ পুরনিগমে মমতার বিশ্বস্ত চাণক্যের বিরাট জয়! শুভেন্দু সরকারকে তীব্র ধাক্কা দিয়ে মালা রায়কেই মেগা পাওয়ার দিল হাইকোর্ট
কলকাতা

তালাবন্ধ পুরনিগমে মমতার বিশ্বস্ত চাণক্যের বিরাট জয়! শুভেন্দু সরকারকে তীব্র ধাক্কা দিয়ে মালা রায়কেই মেগা পাওয়ার দিল হাইকোর্ট

Share
তালাবন্ধ পুরনিগমে মমতার বিশ্বস্ত চাণক্যের বিরাট জয়! শুভেন্দু সরকারকে তীব্র ধাক্কা দিয়ে মালা রায়কেই মেগা পাওয়ার দিল হাইকোর্ট
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কলকাতা পৌরনিগম বা কেএমসি (KMC)-র অন্দরে যে নজিরবিহীন সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল, আজ তাতে এক চরম নাটকীয় মোড় এল। নবান্নে ক্ষমতার অলিন্দে বিজেপি বসার পর থেকেই যখন রাজ্যের একের পর এক পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে কিংবা তৃণমূল কাউন্সিলরদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, ঠিক সেই ডামাডোলের মাঝেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে মস্ত বড় স্বস্তি পেলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। 

[TECHTARANGA-POST:9717]

পুরনিগমে স্বৈরাচারী কায়দায় বৈঠক বাতিলের সরকারি ফতোয়াকে এক লহমায় উড়িয়ে দিয়ে আজ বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সমস্ত পুর আইন মেনে কলকাতা পুরনিগমের মাসিক বৈঠক বা অধিবেশন ডাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে খোদ মালা রায়েরই। হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের পর একধাক্কায় অনেকটাই অক্সিজেন ফিরে পেল কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির।

[TECHTARANGA-POST:9704]

এই গোটা আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে গত ২২ মে ঘটে যাওয়া এক চরম নজিরবিহীন ঘটনা। কলকাতা পুরনিগমের চেয়ারপার্সন হিসেবে মালা রায় আইন মেনেই সেদিন সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি মাসিক অধিবেশন ডেকেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার রাতারাতি পুরনিগমের সচিব বদল করার পর পৌর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এক বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই মাসিক অধিবেশন বাতিল বলে ঘোষণা করেন।

[TECHTARANGA-POST:9679] 

সরকারের এই ফতোয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মালা রায় দুপুরবেলা সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে পুরনিগমে পৌঁছালে দেখা যায়, খোদ অধিবেশন কক্ষের দরজায় ঝুলছে মস্ত বড় তালা! সরকারি কর্মচারীরা ঘর খুলতে অস্বীকার করায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং বাধ্য হয়েই কক্ষের বাইরের বারান্দায় মেঝেতে বসে প্রতীকী সভা করতে হয় কাউন্সিলরদের। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সে সময়ই ফুঁসে উঠে বলেছিলেন, অধিবেশন বাতিল করার ক্ষমতা কোনও আমলা বা সচিবের নেই, তা একমাত্র চেয়ারপার্সন করতে পারেন। এভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় দরজা বন্ধ করে দেওয়া আদতে গণতন্ত্রের অপমান এবং কলকাতায় কোনও বড় বিপর্যয় ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল।

[TECHTARANGA-POST:9656]

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। জট কাটাতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, গত ২২ মে-র সেই বিতর্কিত মাসিক বৈঠকের যে রেজুলিউশন বা নথিপত্র রয়েছে, তা সম্পূর্ণ বৈধ কি না, সেই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত কপি আগামী ৯ জুনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা আকারে হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।

[TECHTARANGA-POST:9699]

 এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৭ জুন। তবে মামলার শুনানির সময় আবেদনকারী তৃণমূলের তরফ থেকে বর্তমান পুর সচিব বা আমলারা যাতে চেয়ারপার্সনকে সমস্ত কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করেন, সেই মর্মে আদালতের একটি স্পষ্ট নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট আপাতত সেই প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, মালা রায়ের ক্ষমতা বহাল রেখে নতুন শাসক শিবিরকে যে একটি কড়া বার্তা দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ১৭ জুনের মেগা শুনানিতে কলকাতা পুরনিগমের এই অচলবস্থা কাটাতে আদালত আর কী বড় পদক্ষেপ করে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *