25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অনুব্রত, এবার কি তবে ভাঙন বীরভূমেও?
পশ্চিমবঙ্গ

‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অনুব্রত, এবার কি তবে ভাঙন বীরভূমেও?

Share
‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অনুব্রত, এবার কি তবে ভাঙন বীরভূমেও?
FILE IMAGE
Share

বোলপুর: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার তৃণমূলের অন্দরে জ্বলতে থাকা ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর রাজনীতিতে কার্যত ‘কোণঠাসা’ হয়ে থাকা কেষ্ট এবার সরাসরি দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রাপ্য সম্মান না পেলে তিনি আর কোনোভাবেই তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন না। শুধু তাই নয়, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নিজের রহস্যময় নিষ্ক্রিয়তার আসল কারণ ফাঁস করার পাশাপাশি বঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের জন্য ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-কে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত আইপ্যাকের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তোলার মারাত্মক অভিযোগ এনে অনুব্রত দাবি করেছেন, এই সংস্থার লোভের কারণেই দলের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9896]

তিহাড় জেল থেকে ফেরার পর বীরভূমের রাজনীতিতে কাজল শেখের উত্থান এবং অনুব্রতের গুরুত্ব কমে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর চর্চা চলছিল। এবার সেই নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক অনুব্রত। আইপ্যাকের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন কোনো তথাকথিত ‘জ্ঞানীমুনি’ বা ভোটকুশলী ছিল না। অনুব্রতের কথায়, তাঁদের মতো ‘রাখাল-বাগালরাই’ জান লড়িয়ে দলকে টেনে তুলেছিল। তাহলে পরবর্তীতে আইপ্যাকের মতো সংস্থাকে আনার প্রয়োজন কেন পড়ল, সেই প্রশ্ন তুলে কেষ্টর দাবি, আইপ্যাক রাজনীতির কিছুই জানে না, ওরা কেবল দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে পয়সা কামাতেই বাংলায় এসেছিল। একই সঙ্গে পুরোনো সখ্যতা ভুলে কংগ্রেসকে চটানো যে তৃণমূলের মস্ত বড় ঐতিহাসিক ভুল ছিল, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। তাঁর আক্ষেপ, আইপ্যাক এত টাকা তুলল অথচ শীর্ষ নেতৃত্ব সব দেখেও জেগে ঘুমিয়ে রইল, যার মাশুল আজ দলকে দিতে হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9893]

রাজ্যে তৃণমূলের পরাজয়ের পর খোদ বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৯ জন বিধায়কের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা এবং লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদের আলাদা ব্লক গড়ে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অনুব্রত। এই বিদ্রোহীদের কোনো ভুল না দেখে তিনি সাফ জানান, তাঁরা তো বিজেপিতে যাচ্ছেন না, আলাদা ফ্রন্ট করছেন এবং পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, সবাইকে সেদিকেই হাঁটতে হবে। দলের এই চরম দুর্দিনে দলনেত্রীর জন্য দুঃখপ্রকাশ করে অনুব্রত বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বড্ড একা হয়ে গিয়েছেন, যা দেখে খারাপ লাগছে। আমরা সবাই ওঁকে ভালোবাসতাম, কিন্তু শেষ সময়ে উনি কার পাল্লায় পড়লেন, তা সত্যিই বোধগম্য নয়।

[TECHTARANGA-POST:9891]

এবারের নির্বাচনে অনুব্রত মণ্ডলকে কেন বীরভূমের কোনো আসনে প্রচার বা বুথ ম্যানেজমেন্টে দেখা যায়নি, তার পেছনের আসল রহস্যও ফাঁস করেছেন তিনি। অনুব্রতের বিস্ফোরক দাবি, এবার দল তাঁকে কোনো দায়িত্বই দেয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কোনো বিধায়ক নিজে থেকে না ডাকলে তাঁর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর সেই কারণেই দলের সম্মানের খাতিরে তিনি ঘরে বসেছিলেন। অনুব্রতের খোঁচা, বিজেপি মাঠে নেমে খেটেছে তাই জিতেছে, আর তৃণমূল অন্য কারোর হাতের ‘ঘি’ খেয়েছে। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কেষ্টর সাফ কথা, সম্মান ফিরে পেলে তবেই দল করবেন, অন্যথায় চুপচাপ ঘরে বসে থাকবেন। তবে এখনই বিজেপিতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। জেল থেকে ফেরার পর থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন এবং আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে তিনি যে আর রাজনীতি করবেন না, তা আজ ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *