25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized সাহাল-মনবীরদের নামিয়েও ইস্টবেঙ্গলের ‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান
Uncategorized

সাহাল-মনবীরদের নামিয়েও ইস্টবেঙ্গলের ‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান

Share
সাহাল-মনবীরদের নামিয়েও ইস্টবেঙ্গলের ‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান
বারাসতে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না মোহনবাগান। ছবি : ফেসবুক
Share

বারাসত : কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে দুই দলই আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে পয়েন্টের অঙ্কে এই ডার্বির খুব একটা গুরুত্ব ছিল না, কারণ সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট যোগ হবে না। তা সত্ত্বেও ময়দানে ডার্বি মানেই তো চিরকালীন সম্মানরক্ষার লড়াই। 

বিশেষ করে কয়েকদিন আগে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হারের টাটকা ক্ষত মেটাতে এই ম্যাচকেই পাখির চোখ করেছিল মোহনবাগান। সোমবার বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের আলোয় বদলার সেই আগুনে জল ঢেলে দিল ইস্টবেঙ্গলের তরুণ ব্রিগেড। প্রথম সারির একাধিক তারকা ফুটবলারকে নামিয়েও কলকাতা লিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারল না মোহনবাগান। ম্যাচ শেষ হল ১-১ ড্রয়ে।

প্রত্যাশামতোই লাল-হলুদ শিবিরে সিনিয়র দলের কোনও ফুটবলার ছিলেন না। কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস ভরসা রেখেছিলেন ঘরোয়া লিগের তরুণ তুর্কিদের ওপর, চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি, গৌরব সাউ, আকাশ হেমব্রম, বিজয় মুর্মুদের কাছে লক্ষ্য ছিল বড় ম্যাচের ‘বড় তারা’ হয়ে ওঠার। 

অন্যদিকে, মোহনবাগান যেন তারকায় ঠাসা। প্রথম একাদশেই ছিলেন শুভাশিস বসু, মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে, আপুইয়া, সাহাল আবদুল সামাদ এবং মনবীর সিংয়ের মতো আইএসএল তারকারা। খাতায়-কলমে লড়াইটা ছিল ভীষণরকম অসম।

ম্যাচের আগে প্রবল বৃষ্টিতে বারাসতের মাঠ ছিল ভারী ও কাদাটে। ফলে স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে দু’দলকেই রীতিমতো বেগ পেতে হয়। কাদার মধ্যে বল আটকে যাওয়ায় বারবার বিঘ্নিত হয় খেলার গতি। প্রথম আধঘণ্টায় মোহনবাগান ৬০ শতাংশের বেশি বল পজেশন রাখলেও, ইস্টবেঙ্গলের জমাট রক্ষণে তারা সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি। 

মোহনবাগানের আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মনবীর এবং সাহাল। কিন্তু প্রশংসা প্রাপ্য ইস্টবেঙ্গলের তন্ময় দাস, অঙ্কন ভট্টাচার্যদের, যারা দাঁতে দাঁত চেপে রক্ষণ সামলেছেন। তবে প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের একটি বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগায় সবুজ-মেরুন। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা একটি লং বলের বাউন্স বুঝতে ভুল করে কিছুটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে ফেলেন ইস্টবেঙ্গলের তরুণ ডিফেন্ডার অঙ্কন। গোল ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন কিপার গৌরব সাউ-ও। এই সুযোগে অঙ্কনের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে মোহনবাগানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মনবীর সিং।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে ধরা দেয় ইস্টবেঙ্গল। প্রথম থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে তারা। প্রথমার্ধের শেষে মোহনবাগানের গোলমুখে কোনও আক্রমণই হয়নি, অথচ দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করে লাল-হলুদের ছেলেরা। কখনও বক্সের ভেতর থেকে বিজয়ের শট শুভাশিসের গায়ে লেগে ফেরে, তো কখনও মেহতাব ও গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষের ভুল বোঝাবুঝিতে ফাঁকা গোল পেয়েও একটু দেরিতে শট নেওয়ায় গোললাইন থেকে বল বাঁচান মেহতাব। এরপর বিজয়ের সামনে ফাঁকা গোল থাকলেও জোরে শট মারতে গিয়ে তিনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হন, একবার বল ফেরে বারে লেগে।

টানা আক্রমণের সুফল ইস্টবেঙ্গল পায় ৬৫ মিনিটে। লাল-হলুদের পরিবর্ত ফুটবলার মহম্মদ বিলাল কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন। মেহতাব, শুভাশিস, রাহুল ভেকের মতো তারকা ডিফেন্ডারদের কার্যত বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান বিলাল, গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষের দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

সমতা ফেরার পর খেলা আরও জমে ওঠে। পুরনো দল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে নামা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া মার্কিংয়ে নড়তেই দেননি অঙ্কন। বিরক্ত হয়ে ইস্টবেঙ্গলের এক ফুটবলারকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ডও দেখেন সায়ন। শেষদিকে মোহনবাগান মরিয়া হয়ে উঠলেও, ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সে মনতোষ চাকলাদাররা রীতিমতো জীবন বাজি রেখে লড়েন। ৮৩ মিনিটে গৌরব সাউ শরীর ছুড়ে যে বিশ্বমানের সেভটি করেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

এই ড্রয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষেই শেষ করল ইস্টবেঙ্গল। গোলপার্থক্যে তারা ভবানীপুরের উপরে রইল। সমসংখ্যক ম্যাচে মোহনবাগানের পয়েন্ট ২৩। ডুরান্ড হারের বদলা তো অধরাই থাকল, উল্টে ইস্টবেঙ্গলের ‘ছোটদের’ দাপটে আটকে গিয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোহনবাগানের ‘বড়দের’।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *