বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর দাবি, এই দুর্নীতি কোনও একক ব্যক্তির কাজ নয়। গোটা চক্রে অন্তত ৩০ জনের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
[TECHTARANGA-POST:10577]
তদন্তে উঠে এসেছে ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে একটি নির্মাণ সংস্থার নাম। ২০১৫ সালে গঠিত এই সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে দাবি SIT-এর। জমি কেনাবেচা, নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো একাধিক লেনদেন এই সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সূত্রের দাবি, সংস্থাটির মালিক হিসেবে দেবরাজ চক্রবর্তীর বাবা তরুণকুমার চক্রবর্তীর নাম থাকলেও, বাস্তবে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিতেন দেবরাজ নিজেই। এমনকি সংস্থার কার্যক্রমও তাঁর বাড়ি থেকেই পরিচালিত হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
[TECHTARANGA-POST:10564]
এদিকে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, দেবরাজ চক্রবর্তী প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে SIT। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিনু মণ্ডল, সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেল, রতন মৃধা, সম্রাট বড়ুয়া এবং গোপাল বাগুই। তদন্তকারী সূত্রের খবর, আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে নোটিস পাঠানো হতে পারে।
‘বিজেপি অফিসে তালা মারার প্র্যাকটিস, এখন নিজেদের অফিসেই!’—দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ
SIT-এর দাবি, দক্ষিণ দমদম, রাজারহাট এবং নিউটাউন এলাকার একাধিক জনপ্রতিনিধির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুর্নীতি চক্রের বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যের তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফলে আগামী দিনে এই মামলায় আরও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
Leave a comment