ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে অন্যতম বড় বিতর্ক ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান। নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, ভোটে কারচুপি হয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি পরাজয় মানেন না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতেও রাজভবনে যাননি। তবে ভোটের ফল প্রকাশের প্রায় দু’মাস পর সেই অবস্থানেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল।
[TECHTARANGA-POST:10594]
শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে প্রথমবারের মতো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি মানুষের স্বার্থে কাজ করে, তাহলে জনস্বার্থের প্রশ্নে সহযোগিতা করতেও তিনি প্রস্তুত। শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও বহু বছর তৃণমূল করেছেন। তার আগে কংগ্রেসও করেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। সেটাই আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। ছয় জেলার দায়িত্বও আপনার হাতে ছিল। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্বও আপনিই সামলেছেন।”
বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে রাক্ষুসে নিম্নচাপ! ওলটপালট হতে চলেছে বাংলার এই জেলাগুলো
[TECHTARANGA-POST:10563]
এর পাশাপাশি বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে যোগদান নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, “যারা আপনার সঙ্গে গেল, তারা সবাই সাধু হয়ে গেল! আর যারা যায়নি, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই-সহ নানা তদন্ত। মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া আছে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যে সম্বোধন এবং শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখা হচ্ছে। যদিও একইসঙ্গে বিজেপি এবং বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক আক্রমণও বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী।
Leave a comment