০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল: নেপথ্যে কি পাকিস্তান ও আমেরিকার সঙ্গে সমীকরণ?
বাংলাদেশ

নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল: নেপথ্যে কি পাকিস্তান ও আমেরিকার সঙ্গে সমীকরণ?

Share
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ রদবদল নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঢাকা সেনানিবাসে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের মাথায় এই রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই রদবদল বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (AFD) বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (PSO) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান সম্ভবত পরবর্তী চিফ অব জেনারেল স্টাফ (CGS) হতে চলেছেন। বর্তমান সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম নির্ধারিত সময়ের আগেই পিআরএল-এ (অবসরকালীন ছুটি) যাচ্ছেন বলে খবর।

অন্যদিকে, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (QMG) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমান সম্ভবত কামরুল হাসানের ফেলে আসা পিএসও (AFD) পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন। উল্লেখ্য, কামরুল হাসান পিএসও থাকাকালীন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো এবং বাংলাদেশের নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পাঠানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর সিজিএস পদে উত্তরণ পাকিস্তান থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে কিউএমজি (QMG) পদে সরানো হতে পারে। তাঁর জায়গায় ডিজিএফআই (DGFI) প্রধান মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেতে পারেন।

সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক শীঘ্রই অবসরে যাচ্ছেন।

এই রদবদলের প্রক্রিয়াটি এমন এক সময়ে চলছে যখন মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি গোয়েন্দা দল ঢাকা সফরে রয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি মেজর ভিসেন্টে বি সামানিগো এবং ক্যাপ্টেন ব্রিটানি জে হোয়াইটহেড ঢাকায় পৌঁছান। একইসঙ্গে, ১৮ জানুয়ারি মেজর ট্রয় ডেভিড অ্যান্থনি ব্যাগনালের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আরেকটি মার্কিন দল ঢাকায় এসেছে। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘টাইগার লাইটনিং এক্সারসাইজ-২০২৬’-এর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তার আগে এই রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। জেনারেল জামান নিজেও একসময় সিজিএস পদে ছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে এই পরিবর্তনগুলি সামরিক কেনাকাটা, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা লেনদেনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেনাবাহিনীতে এই রদবদল সাধারণ মানুষের মনে দুটি বার্তা দেয়, প্রথমত, সেনাবাহিনী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো আপস করতে চাইছে না। দ্বিতীয়ত, এই রদবদল প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুমুখী অবস্থান নিচ্ছে—যেখানে আমেরিকা এবং পাকিস্তান উভয়ের সাথেই সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

তবে নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে এই মাত্রার রদবদল কিছুটা প্রশাসনিক অস্থিরতা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ সিজিএস এবং পিএসও-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব বুঝে নিতে কিছুটা সময় নেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles