25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ ফের ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ীর মৃত্যু, তামিলনাড়ুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল লালগোলার শ্রমিকের
পশ্চিমবঙ্গ

ফের ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ীর মৃত্যু, তামিলনাড়ুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল লালগোলার শ্রমিকের

Share
Share

লালগোলা: আবারও ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিক। এবারের ঘটনাস্থল তামিলনাড়ু। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল লালগোলা ব্লকের খলিফাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সমিরুল হকের। এই মর্মান্তিক দুঃসংবাদ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।

[TECHTARANGA-POST:6139]

জানা গিয়েছে, সমিরুলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাঁর অকালপ্রয়াণে তিন নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ আজ ঘোর অন্ধকারে। এছাড়াও, বাড়িতে রয়েছেন শারীরিকভাবে অসুস্থ স্ত্রী, যিনি স্বামীর মৃত্যুতে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “সরকার যদি এখনই আমাদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে পরিবারটা শেষ হয়ে যাবে। বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কোথায় যাব? আমাদের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেল।” মৃত শ্রমিকের ঘরে এখন কেবল পড়ে আছে ঋণের বোঝা আর চরম অনিশ্চয়তা।

এই ঘটনা কেন্দ্র করে খলিফাবাদের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জেলায় দারিদ্র্য আর বেকারত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার যুবক ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, জেলায় ২০ জন শাসকদলের বিধায়ক এবং ৩ জন শাসকদলের সাংসদ থাকা সত্ত্বেও কেন মুর্শিদাবাদের চিত্রটা বদলাচ্ছে না? কেন এখানে শিল্প নেই? কেন গড়ে উঠছে না কোনও কলকারখানা?

[TECHTARANGA-POST:6130]

এলাকাবাসীর দাবি, মুর্শিদাবাদে যদি স্থায়ী কর্মসংস্থান বা শিল্পাঞ্চল থাকত, তাহলে সমিরুলকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়ে কাজ করতে হত না। রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবেই বারবার জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের কফিনবন্দি দেহ ফিরছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। তাদের সাফ কথা, অবিলম্বে জেলায় কলকারখানা স্থাপন করে স্থানীয় যুবকদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে আগামী দিনে এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল থামানো যাবে না।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *