কলকাতা: রাজ্যে যখন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই আর জি কর কাণ্ডের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার এই দুর্নীতি মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের পর নিজেদের প্রথম চার্জশিট বা ‘প্রসিকিউশন কমপ্লেন’ দাখিল করল ইডি। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষসহ মোট সাতজনের নাম এই চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর।
[TECHTARANGA-POST:6296]
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় কয়েক হাজার পাতার এই চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত হিসাবে রাখা হয়েছে সন্দীপ ঘোষকে। তাঁর পাশাপাশি যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন – সন্দীপ ঘোষের দেহরক্ষী আফসার আলি, হাসপাতালের ভেন্ডার বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরা ও প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। এমনকী, সন্দীপ-জায়াও এই তালিকায় রয়েছেন বলে বিশেষ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, আর জি কর হাসপাতালে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বায়ো-মেডিক্যাল বর্জ্য পাচার—সবকিছুতেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র চলত। এই চক্রের মাথা ছিলেন খোদ সন্দীপ ঘোষ। ইডি দাবি করেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে এবং কোন কোন প্রভাবশালী এই ঘটনার সুবিধাভোগী, তার বিস্তারিত বিবরণ এই চার্জশিটে রয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:6288]
নির্বাচন চলাকালীন এই চার্জশিট জমা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা এই দুর্নীতিকে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছে, তখন শাসক শিবিরের একাংশ একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছে। তবে ইডির দাবি, ধৃতদের জেরা করে এবং বাজেয়াপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করেই এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে।
আদালতে এই চার্জশিট জমা পড়ার ফলে অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেয়।
Leave a comment