নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার রণংদেহি মেজাজে এবার কার্যত স্থবির হয়ে পড়ল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী। ইরানের চরম হুঁশিয়ারির জেরে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথে বর্তমানে আটকে রয়েছে প্রায় ৭০০টি তেলের ট্যাঙ্কার। যার মধ্যে ৩৩৪টি বিশালাকার ট্যাঙ্কার অশোধিত তেল বোঝাই করা। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পতাকা ছাড়া অন্য কোনো দেশের জাহাজ এই পথ দিয়ে গেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কায় গত কয়েকদিন ধরে কোনো নাবিকই আর হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর সাহস দেখাচ্ছেন না।
পরিসংখ্যান বলছে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল রফতানি হতো, গত সোমবার সেখানে মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার পার হতে পেরেছে। অর্থাৎ, তেল রফতানি কমেছে প্রায় ৮৬ শতাংশ! সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ এবং ‘কেপলার’-এর দেওয়া এই তথ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ দেশের আমদানিকৃত তেলের ৫০ শতাংশ এবং সিংহভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস এই হরমুজ় প্রণালী হয়েই আসে। ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার মূল উৎস এই পথটিই। এই সংকট মোকাবিলায় সাউথ ব্লক ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে:
রফতানি স্থগিত: পরিস্থিতি বিচার করে ভারত আপাতত অন্য দেশে তেল রফতানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিকল্প বাজার: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো থেকে তেল এবং গ্যাস আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দিল্লি।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন: দেশের ভেতরেই তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
মজুত ভাণ্ডার: কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, ভারতে আপাতত বেশ কয়েকদিনের তেল মজুত রয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদে এই অবরোধ চললে বড় কোনো সংকট হবে না। তবে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প ও কঠিন পথ ভাবতে হতে পারে মোদী সরকারকে।
আপাতত পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং জোগানে টান পড়ার এই আশঙ্কা কতদিনে কাটে, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment