০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ৮ বছর আগেই নিজের মৃত্যু এঁকেছিলেন রাহুল, লিখেছিলেন ‘৪২ তো যাওয়ার বয়স নয়’!
পশ্চিমবঙ্গ

৮ বছর আগেই নিজের মৃত্যু এঁকেছিলেন রাহুল, লিখেছিলেন ‘৪২ তো যাওয়ার বয়স নয়’!

Share
Share

কলকাতা: কাকতালীয় নাকি অলৌকিক? নাকি নিজের আয়ুর রেখা নিজেই পড়তে পেরেছিলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়? তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর শোকাতুর টালিগঞ্জ থেকে নেটপাড়া – সর্বত্রই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এক শিহরণ জাগানো প্রশ্ন। ২০১৮ সালে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর মুখপত্র ‘বাতায়ন’-এ রাহুল একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যার নাম ছিল ‘বান্ধবীরা’। সেই লেখার প্রতিটি শব্দ আজ যেন এক অমোঘ এবং ভয়ঙ্কর সত্য হয়ে সামনে এসেছে!

আশ্চর্যের বিষয় হল, ২০১৮ সালে যখন রাহুলের বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে… বিয়াল্লিশ তো যাওয়ার বয়স নয়…।” আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই বিয়াল্লিশ বছর বয়সেই রাহুলের চিরবিদায় ঘটল! তাও একেবারেই অকস্মাৎ! নিজের মৃত্যু নিয়ে এমন নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী দেখে স্তম্ভিত তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে খোদ প্রচ্ছদ শিল্পী ‘কলুদা’, যিনি সেই সময় প্রবন্ধটির অলঙ্করণ করেছিলেন।

রাহুলের সেই লেখায় বারবার ফিরে এসেছিল মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী অনুভূতির কথা। এমনকী, তাঁর লেখায় ছিল জলে ডুবে যাওয়ার অনুষঙ্গও। কাকতালীয়ভাবে, তাঁর প্রয়াণের ঠিক আগেও তিনি ছিলেন সমুদ্রসৈকত তালসারিতে। প্রবন্ধের সেই কাল্পনিক আত্মা যেন দেহ থেকে বেরিয়ে নিজের চারপাশ মেপে নিচ্ছিল, ঠিক যেমনটা আজ বাস্তবে ঘটছে বিজয়গড়ে তাঁর বাড়ির সামনে। নিজের পাড়ার প্রিয় ‘বাবিন’কে শেষ বিদায় জানাতে যখন ভিড় জমেছে, তখন সকলের মনে একটাই কথা – একজন মানুষ কীভাবে ৮ বছর আগে নিজের মৃত্যুর বয়স এবং ধরন এভাবে লিখে যেতে পারেন?

সোমবার সকাল থেকেই রাহুলের বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে থমথমে পরিবেশ। তমলুক থেকে মরদেহ আসার অপেক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্কুলের বন্ধুরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় – শ্মশানে উপস্থিত ইন্ডাস্ট্রির সকলের চোখেই জল। কিন্তু, সবার মুখে একটাই আলোচনা, যার বিষয়বস্তু – রাহুলের সেই রহস্যময় লেখা। বিজ্ঞানের কাছে হয়তো এর কোনও ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু, রাহুলের সেই লেখনী আজ এক অলৌকিক সমাপতন হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

তাঁর কলমে শব্দগুলো জলের মতো সহজ হয়ে আসত। কিন্তু, সেই কলমই যে নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়টা এভাবে লিখে রেখে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। হয়তো একেই বলে ‘অদৃষ্টের লিখন’! যা রাহুল নিজেই লিখেছিলেন বছর আটেক আগে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *