25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ উত্তরবঙ্গে পা দিয়েই ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!
পশ্চিমবঙ্গ

উত্তরবঙ্গে পা দিয়েই ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

Share
Share

শিলিগুড়ি: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার উত্তরবঙ্গের দুর্নীতি দমনে অল-আউট অ্যাকশনে নামছে নতুন সরকার। বুধবার শিলিগুড়িতে পা রেখেই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় পাহাড়ে উন্নয়নের নামে ঠিক কী কী কাজ হয়েছে, কত কোটি টাকার নয়ছয় হয়েছে — এবার তার প্রতিটা ফাইল খোলা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘সাফাই অভিযান’-এর হুঁশিয়ারি ঘিরে ইতিমধ্যেই পাহাড়ি রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9303]

মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার আগেই উত্তরকন্যায় গিয়ে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। গত শনিবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল খতিয়ে দেখেন তিনি। তদন্তে জানা যায়, বহু ক্ষেত্রে নাকি কোনও কাজই হয়নি, সবটাই হয়েছে কেবল ‘কাগজ-কলমে’! কোটি কোটি টাকার এই ভূতুড়ে কাজ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মন্ত্রী। তৎক্ষণাৎ একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদার সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ বা কালো তালিকাভুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন তিনি। দুর্নীতি দমনে নিশীথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন করে তিনি নিজেই উত্তরকন্যায় বসে সমস্ত কাজকর্ম তদারকি করবেন।

[TECHTARANGA-POST:9288]

বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দুর্নীতিতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে। তৃণমূল জমানায় যখন অনিত থাপা কিংবা বিনয় তামাংরা জিটিএর দায়িত্বে ছিলেন, তখন পাহাড়ের সাধারণ মানুষের উন্নয়নের চেয়ে প্রচারেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পাহাড়ের মানুষ বঞ্চিতই থেকে গিয়েছেন। আর আড়ালে আখের গুছিয়েছেন কেবল কিছু শাসক ঘনিষ্ঠ নেতা। সেই সমস্ত ধামাচাপা পড়া কেলেঙ্কারি এবার টেনে বের করতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী।

[TECHTARANGA-POST:9302]

এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের পর জিটিএ-কে পাখির চোখ করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুংও। তৃণমূল জমানার প্রবল দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অতি সম্প্রতি জিটিএ-র সদর দফতর ‘লালকুঠি’ ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তবে, পাহাড়ে এখন পর্যটনের ভরা মরশুম চলায় পর্যটকদের হয়রানির কথা মাথায় রেখে সাময়িকভাবে সেই আন্দোলন স্থগিত রাখেন গুরুং। কিন্তু, সুর নরম করেননি তিনি।

[TECHTARANGA-POST:9274]

একদিকে বিমল গুরুংয়ের তোপ, অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার হুঁশিয়ারি — দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে পাহাড়ের প্রাক্তন প্রভাবশালী শাসকদের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *