০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬: রেকর্ড দেড় কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম-সম্ভাবনা ঘিরে সাজো-সাজো রব, জোরদার নিরাপত্তা
পশ্চিমবঙ্গ

গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬: রেকর্ড দেড় কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম-সম্ভাবনা ঘিরে সাজো-সাজো রব, জোরদার নিরাপত্তা

Share
Share

কলকাতা: পুণ্যস্নানের লগ্ন আসন্ন। ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে সাগরদ্বীপকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রায় ১.৫ কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম হতে পারে। ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে নজরদারি— কোনও বিষয়েই কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নবান্ন। মঙ্গলবার প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছেন।

মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হিসাবে থাকছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা মেলা চত্বরে এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,২০০ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি লক্ষ করতে আকাশপথে নজরদারি চালাবে ড্রোন। মেলা চত্বরকে একাধিক জোনে ভাগ করে নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন কয়েক হাজার পুলিশকর্মী ও আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “গঙ্গাসাগর মেলা কুম্ভমেলার থেকে কোনও অংশে কম নয়। বরং এখানে যাতায়াত অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তা সত্ত্বেও আমরা পুণ্যার্থীদের জন্য সবরকম সুবিধা নিশ্চিত করছি।”

পরিবহণ: মেলায় পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত বাসের পাশাপাশি ভেসেল ও লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা: বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক মোতায়েন রাখা হচ্ছে।

বিমা: মেলায় আসা পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ বিমার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে যেন কোনও সমস্যা না হয়। ট্রাফিক জট এড়াতে বিকল্প পথের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে নদীপথে কুয়াশার সতর্কতা থাকলে ভেসেল চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ জারি করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর এই মেলাটি ঘিরে বিশেষ আবেগ কাজ করছে কারণ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পুণ্যার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’— এই প্রবাদকে সার্থক করতে মেলা প্রাঙ্গণকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কায় থাকলেও প্রশাসন যে তা সামলাতে কোমর বেঁধে নেমেছে, মঙ্গলবারের প্রশাসনিক রিপোর্টেই তা স্পষ্ট।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *