25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized ট্রাম্প-মোদী ‘মহাসম্মতি’: রাশিয়ার বদলে আমেরিকা থেকে তেল কিনবে ভারত
Uncategorized

ট্রাম্প-মোদী ‘মহাসম্মতি’: রাশিয়ার বদলে আমেরিকা থেকে তেল কিনবে ভারত

Share
Share

নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছল ভারত ও আমেরিকা। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বড় ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে ভারতও তাদের জ্বালানি ও প্রযুক্তি আমদানির নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। এর পরিবর্তে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে নয়াদিল্লি। ভারত আগামী দিনে আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জ্বালানি (এনার্জি) ও প্রযুক্তিপণ্য কিনবে বলে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্গিও গর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপরই ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ভারতের সঙ্গে এই সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে জেনে খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক ধন্যবাদ। শান্তির জন্য তাঁর প্রচেষ্টাকে ভারত পূর্ণ সমর্থন করে।”

উল্লেখ্য, এই চুক্তির আগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটন উষ্মা প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সবার আগে দেশের স্বার্থ’। তিনি দেশবাসীকে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে আত্মনির্ভরতার পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অনড় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত সমঝোতার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনই প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ, কলকাতা

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *