ঢাকা: বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ফের প্রাণ হারালেন এক সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যবসায়ী। সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা এলাকায় সুষেণচন্দ্র সরকার (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে তাঁর দোকানেই কুপিয়ে খুন করল একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার নৃশংসতায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুষেণচন্দ্র সরকার বোগার বাজারে ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি দোকান চালাতেন। সোমবার রাতে তিনি যখন দোকানে একা ছিলেন, তখন একদল দুষ্কৃতী সেখানে অতর্কিতে ঢুকে পড়ে। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর পর আততায়ীরা দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে চম্পট দেয়।
[TECHTARANGA-POST:6366]
রাত গভীর হলেও সুষেণ বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দোকানে গিয়ে শাটার তুলতেই তাঁরা আঁতকে ওঠেন। ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় সুষেণকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। দ্রুত ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
[TECHTARANGA-POST:6365]
নিহত ব্যবসায়ীর ছেলে সুজন সরকার অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাবাকে খুনের পর দোকান থেকে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভোটের মুখে বাংলাদেশে হিন্দু এবং সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ময়মনসিংহেরই দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকায় অমৃত মণ্ডল নামের আরও একজনকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ সামনে আসে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল। দীপু হত্যা নিয়ে ভারত তো বটেই, এমনকী রাষ্ট্রসংঘও নিন্দা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুষেণচন্দ্র সরকারের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
Leave a comment