০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home Uncategorized সেনাপ্রধান বনাম বিদেশমন্ত্রী: খলিলুর রহমানের কামব্যাকে কি তুঙ্গে উঠবে বাংলাদেশের ‘সেনা-সরকার’ সংঘাত?
Uncategorized

সেনাপ্রধান বনাম বিদেশমন্ত্রী: খলিলুর রহমানের কামব্যাকে কি তুঙ্গে উঠবে বাংলাদেশের ‘সেনা-সরকার’ সংঘাত?

Share
Share

বাংলাদেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন খলিলুর রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে ‘টেকনোক্র্যাট’ কোটায় তাঁর বিদেশমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ ঢাকার রাজনৈতিক মহলে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনই সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন থেকেই খলিলুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। বিশেষ করে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তাঁর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগের নেপথ্যে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর জোরালো প্রভাব কাজ করেছে, যা সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁর পুরনো দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিতে পারে।

খলিলুর রহমান ও জেনারেল জামানের বিরোধের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৫ সালের মে মাসে, যখন তৎকালীন এনএসএ খলিলুর রহমান রাখাইন সীমান্তে একটি বিতর্কিত ‘মানবিক করিডোর’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেনাপ্রধান সেই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ‘ব্লাডি করিডোর’ হবে না। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছিল যে, খলিলুর রহমানের ঢাকা সেনানিবাসে প্রবেশ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছিলেন জেনারেল জামান। নতুন মন্ত্রিসভায় খলিলুর রহমানের অন্তর্ভুক্তির ফলে এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল, যা একজন ‘প্লান্টেড’ মন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ রদবদল নিয়েও খলিলুর রহমানের ছক সেনাপ্রধানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিফ অফ জেনারেল স্টাফ’ (সিজিএস) পদ পূরণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে খলিলুর রহমান ও মুহাম্মদ ইউনূস যে চাল দিয়েছিলেন, জেনারেল জামান তা সফল হতে দেননি। বর্তমানে সিজিএস পদটি শূন্য থাকলেও খলিলুর রহমান চাইছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সেনাপ্রধানকে কোণঠাসা করতে। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের জুন মাসে অবসরে যাওয়ার আগে জেনারেল জামান চাইছেন নিজের অনুগত অফিসারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে, যাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কোনো চাল সফল না হয়। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা, ভারত ও চীনের নজর থাকা এই পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমান ও সেনাপ্রধানের এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *