কলকাতা: সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অন্দরের ‘হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট’ জনসমক্ষে এনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাইক্রো-অবজারভারদের ব্যবহার করে ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ‘ERMO South 24 Parganas’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিশেষ রোল অবজারভার সি. মুরুগন মাইক্রো-অবজ়ারভারদের জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। অভিষেকের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট যেখানে মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কেবল তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে তাঁরা কীভাবে নাম বাদ দেওয়ার মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
[TECHTARANGA-POST:6591]
অভিষেকের তোলা প্রধান ৫টি বিষয়:
১. আইনি পদ্ধতির অবমাননা: সরকারি নথিপত্র বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বদলে কেন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এ ধরনের সংবেদনশীল নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে?
২. তথ্য জালিয়াতির আশঙ্কা: রোল অবজারভারদের জেলাভিত্তিক নিয়োগ করা হলেও তাঁদের লগ-ইন শংসাপত্র (Credentials) কলকাতার একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৩. নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা: অভিষেকের দাবি, লগ-ইন তথ্যের অপব্যবহার করে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে এবং ভোটারতালিকায় তাঁদের নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
৪. অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, তদন্ত করলে দেখা যাবে লগ-ইন ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেস এবং টাওয়ার লোকেশন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলবে না।
৫. দিল্লির ‘জমিদার’ যোগ: নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি জানান, দিল্লির ‘জমিদারদের’ ইশারায় যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আপসহীন আইনি লড়াই চালানো হবে।
অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বৈধতা আসে জনগণের বিশ্বাস থেকে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে নয়। এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
[TECHTARANGA-POST:6582]
অন্যদিকে, এই অভিযোগ হাতিয়ার করে আজ বুধবারই তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে চলেছে।
Leave a comment