25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized ‘বঙ্কিমদা’র পর এবার ‘স্বামী রামকৃষ্ণ’! মোদীর সম্বোধন নিয়ে ‘স্তম্ভিত’ মমতা, তুঙ্গে বিতর্ক
Uncategorized

‘বঙ্কিমদা’র পর এবার ‘স্বামী রামকৃষ্ণ’! মোদীর সম্বোধন নিয়ে ‘স্তম্ভিত’ মমতা, তুঙ্গে বিতর্ক

Share
Share

কলকাতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন বিতর্কে জড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘শব্দ চয়ন’ নিয়ে সরব হয়ে তাঁকে সরাসরি তোপ দেগেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, বাঙালি মণীষীদের নামের সঙ্গে অযাচিত ‘উপসর্গ’ ও ‘প্রত্যয়’ যোগ করা বন্ধ হোক।

বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি হিন্দি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি লেখেন, “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।” রামকৃষ্ণদেবের আধ্যাত্মিক দর্শন যে মানবতার কল্যাণে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দটির প্রয়োগ ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। সাধারণত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ ব্যবহার করা হলেও, স্বয়ং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণকে ভক্তরা ‘ঠাকুর’ নামেই চিনে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্টের কিছু পরেই কড়া ভাষায় পাল্টা পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইংরেজিতে লেখা সেই পোস্টে তিনি নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি স্তম্ভিত! প্রধানমন্ত্রী আবার পশ্চিমবঙ্গের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা দেখালেন।”

মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ (ঈশ্বর) হিসাবে পরিচিত। তাঁর মৃত্যুর পর শিষ্যরা যে মঠ ও মিশন গড়ে তোলেন, সেই সন্ন্যাসীদের ‘স্বামী’ বলা হয়। বাঙালি সংস্কৃতির পবিত্র ত্রয়ী হলেন — ঠাকুর (শ্রীরামকৃষ্ণ), মা (সারদা দেবী) এবং স্বামীজি (বিবেকানন্দ)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করা কেবল অনুপযুক্তই নয়, বরং তা অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিকভাবে ভুল।

এর আগে সংসদ ভবনে বক্তৃতা করার সময় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন মোদী। যা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গের রেশ টেনে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন আধুনিক ভারতের স্থপতি এই মহান বাঙালি মণীষীদের নামের সঙ্গে এমন নিত্যনতুন উপসর্গ ও প্রত্যয় জুড়ে দেওয়া না যেন হয়।

এদিন নিজের মূল পোস্টে শ্রী রামকৃষ্ণের ‘যত মত তত পথ’-এর আদর্শকে আলোকবর্তিকা হিসাবে উল্লেখ করেন মমতা। পাশাপাশি, কামারপুকুর ও জয়রামবাটির উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘বাঙালি আবেগ’ ও ‘সাংস্কৃতিক সচেতনতা’কে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *