কলকাতা: অতীতের তিক্ততা ভুলে নতুন জমানার বিধানসভায় এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশ্যে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি বড়সড় আশ্বাস দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, অতীতে বিরোধী দলের কেউ মন্ত্রীদের চিঠি লিখলে তার কোনও জবাব বা প্রাপ্তিস্বীকার আসত না, এমনকি পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেও কোনও সাড়া মিলত না।
[TECHTARANGA-POST:9156]
তবে এবার আর তেমনটা হবে না; বিরোধী শিবিরের বিধায়করা কোনও সমস্যার কথা জানিয়ে মন্ত্রীদের চিঠি লিখলে শুধু প্রাপ্তিস্বীকারই নয়, বরং সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টাও করা হবে। দেশের বাকি ২১টি বিজেপি শাসিত রাজ্য যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে সরকার চালাচ্ছে, বাংলাতেও ঠিক সেই পথেই সুশাসন মিলবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:9155]
সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র ‘হাউজ বিলংস টু অপজিশন’— এই তত্ত্বকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কার্যক্রম চলবে বলে এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নবনিযুক্ত স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেন, ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য সংখ্যা বেশি হলেও স্পিকার যেন বিরোধীদের কথা বলার জন্য পর্যাপ্ত ও বেশি সময় দেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাঁদের দল অনুমতি দিলে তাঁরা যেন নির্দ্বিধায় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং মন্ত্রীদেরও বিরোধীদের সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:9153]
নিজের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শাস্তির খাঁড়া বা তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী ফের মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকার চায় না বিরোধী দলনেতা ১১ মাস বিধানসভার বাইরে থাকুন বা কোনও বিধায়ক শারীরিক হেনস্থার শিকার হোন। সভায় ভাষাপ্রয়োগের শালীনতা বজায় রেখে এবং সংবিধানকে মাথায় রেখে সকলের প্রতিনিধিত্বমূলক এক গঠনমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দিয়ে প্রথম দিনেই বাজিমাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
Leave a comment