টলিপাড়ায় ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাস! ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্রনীলের হাইভোল্টেজ বৈঠক, নবান্নে জমা পড়ল বিস্ফোরক রিপোর্ট - Hidden Stories News
25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা টলিপাড়ায় ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাস! ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্রনীলের হাইভোল্টেজ বৈঠক, নবান্নে জমা পড়ল বিস্ফোরক রিপোর্ট
কলকাতা

টলিপাড়ায় ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাস! ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্রনীলের হাইভোল্টেজ বৈঠক, নবান্নে জমা পড়ল বিস্ফোরক রিপোর্ট

Share
টলিপাড়ায় ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাস! ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুদ্রনীলের হাইভোল্টেজ বৈঠক, নবান্নে জমা পড়ল বিস্ফোরক রিপোর্ট
ছবি: সংগৃহীত
Share

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার খোলস ছেড়ে বেরোতে শুরু করেছে স্টুডিয়োপাড়া। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভয় আর চাপ সরিয়ে অবশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টালিগঞ্জের কলাকুশলীরা। সম্প্রতি কলকাতার টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োয় ২৬টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি হাইভোল্টেজ বৈঠকে টলিপাড়ার ‘আতঙ্ক’ তথা ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উঠে এল একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ। বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের আহ্বানে আয়োজিত এই বৈঠকে তারকা-অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠিত প্রযোজকরা উপস্থিত হয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মন খুলে ব্যক্ত করেন। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9467]

বৈঠক শেষে অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “এই সমস্ত রূপটান শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা অতীতে কখনও এমন অনুকূল বা স্বাধীন পরিবেশ পাননি। পূর্বতন জমানায় তাঁদের তো মন্ত্রক অবধি পৌঁছতেই দেওয়া হত না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর নির্দেশেই আমরা চারজন — অর্থাৎ যাঁদের সঙ্গে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সরাসরি যোগ রয়েছে; আমি, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়, প্রত্যেকের অভাব-অভিযোগ শুনছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি।” রুদ্রনীল আরও বলেন, “রাজ্যে পরিবর্তনের পর স্টুডিয়োপাড়ার নানান যন্ত্রণার কথা এবার প্রকাশ্যে আসছে। সকলেরই আশা, ইন্ডাস্ট্রিতে এবার একটি সুস্থ ও পেশাদার পরিবেশ ফিরবে। আমরা সবটা সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাব। বাকি সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। তিনি চান ভয়মুক্ত এক সংস্কৃতি জগৎ, যেখানে কোনওরকম স্বৈরাচার বা দাদাগিরি চলবে না।”

[TECHTARANGA-POST:9464]

গিল্ডের এই বৈঠকে সবথেকে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন রূপটান শিল্পী সিমরন পাল। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমি গিল্ডের একজন পদস্থ ব্যক্তির কাছে কাজ চেয়েও পাইনি। উল্টে আমার হাতে থাকা কিছু কাজও ক্ষমতার জোরে কেড়ে নেওয়া হয়। সেই সময় আমি ফেডারেশনের সভাপতির কাছে লিখিত চিঠি দিলে, তা প্রত্যাহার করার জন্য আমার কাছে ক্রমাগত হুমকি আসতে থাকে। এমনকী আমাকে প্রাণনাশের হুমকি থেকে শুরু করে অশালীন প্রস্তাব পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।” সিমরন আরও জানান, এই বিষয়ে তিনি স্বরূপ বিশ্বাসকে ইমেল করার পাশাপাশি থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। কিন্তু, ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধাচরণ করলে ফল ভালো হবে না বলে তাঁকে অনবরত হুঁশিয়ারি দেওয়া হত। যার ফলে তিনি এখনও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

[TECHTARANGA-POST:9434]

পাশাপাশি, সংগ্রাম কর্মকার নামক এক বিজেপি সমর্থক টেকনিশিয়ানের অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, দেশের বাইরে কাজ করে আসার পর থেকেই তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরাগভাজন হন। অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাড়িতে চলে গেলেও রেহাই পাননি। এক প্রভাবশালীর নির্দেশে ১৫-২০ জন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। সংগ্রাম বলেন, “দুষ্কৃতীরা আমার শরীরে বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয় এবং এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে থাকে। সেই সময় আমার তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এলে একটি ইটের আঘাত তাঁর তলপেটে লাগে। এর ফলে গর্ভপাত হয়ে যায় আমার স্ত্রীর। এরপর ওরা আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আমাকে দোকানের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।” এখানেই শেষ নয়, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার দিনে তাঁদের ঘর লুঠ করে, বাইরে থেকে দরজা আটকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশে জানিয়েও তখন কোনও সুরাহা হয়নি।

[TECHTARANGA-POST:9465]

স্টুডিয়োপাড়ার এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন সরকারের কাছে টলিপাড়ার প্রত্যেকেরই একটাই বড় আশা — সমস্তরকম স্বৈরাচার ও ব্যভিচারমুক্ত এক নতুন ও সুস্থ চলচ্চিত্র শিল্প।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *