25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
রাত ১১:৩৫:০০
Home কলকাতা মমতার খাসতালুকে একি কাণ্ড! শুভেন্দুর ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম বিলি করছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর
কলকাতা

মমতার খাসতালুকে একি কাণ্ড! শুভেন্দুর ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম বিলি করছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর

Share
মমতার খাসতালুকে একি কাণ্ড! শুভেন্দুর ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম বিলি করছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর
তৃণমূল কাউন্সিলরের তদারকিতে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ। ছবি-সংগৃহীত
Share

কলকাতা: ছাব্বিশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে যখন প্রকল্প নিয়ে তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতার এক নজিরবিহীন ছবি দেখে চমকে উঠলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

[TECHTARANGA-POST:9663]

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ভবানীপুরের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর নিজস্ব অফিসে এখন জোরকদমে চলছে বিজেপি সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্মপূরণের কাজ। সোমবার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের অফিসে এই ফর্ম ফিলআপের শিবিরে স্থানীয় মহিলাদের ব্যাপক সাড়াও মিলল। খোদ তৃণমূলের এক দাপুটে কাউন্সিলর যেভাবে শুভেন্দু সরকারের নতুন প্রকল্পের তদারকিতে নিজে ময়দানে নেমেছেন, তা নিয়ে ইতিমিধ্যেই বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও তীব্র শোরগোল উঠতে শুরু করেছে।

[TECHTARANGA-POST:9672]

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প ছিল রাজ্যের মহিলাদের অন্যতম বড় আর্থিক সহায়। ওই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেতেন। তবে বিজেপি নির্বাচনের আগেই তাদের সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে এই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য জুড়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। গত শুক্রবার থেকে অফলাইনে এবং সোমবার থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এই যোজনার ফর্ম ডাউনলোডের প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্য জুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9661]

ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ শিবির নিয়ে যখন দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে, তখন অবশ্য কোনো বিতর্কেই কান দিতে নারাজ কাউন্সিলর অসীম বসু। নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পক্ষে সওয়াল করে তিনি স্পষ্ট জানান, ফর্ম মূলত পৌরসভার মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং এই বৃহত্তর সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। একজন তৃণমূল কাউন্সিলর হয়ে নতুন সরকারের প্রকল্পের প্রচার ও প্রসারে কেন সাহায্য করছেন— এই প্রশ্নের মুখে পড়ে অসীমবাবু সাফ জানিয়ে দেন, জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কে কী বলল বা সমালোচনা করল, তাতে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন দুর্দিনেও দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেভাবে অসীম বসু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *