০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা তৃণমূলে ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের! নেপথ্যে কি তবে গ্রেফতারির আশঙ্কা, নাকি মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
কলকাতা

তৃণমূলে ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের! নেপথ্যে কি তবে গ্রেফতারির আশঙ্কা, নাকি মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’?

Share
তৃণমূলে ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের! নেপথ্যে কি তবে গ্রেফতারির আশঙ্কা, নাকি মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে এখন কান পাতলেই একটা গুঞ্জন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভের পাহাড় জমছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, পরাজিত প্রার্থী থেকে শুরু করে কাউন্সিলর বা পাড়ার সাধারণ নেতারাও সোজাসাপ্টা ভাষায় আঙুল তুলছেন সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দিকে। অনেকেরই স্পষ্ট মত, ‘অভিষেকের জন্যই দলটা শেষ হয়ে গেল।’ এই চরম ডামাডোলের মধ্যেই অভিষেককে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখলেও, তাঁর ক্ষমতা আগের মতো আর অবাধ রাখলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র জল্পনা, কেন হঠাৎ অভিষেকের ডানা ছাঁটার এই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন নেত্রী?

[TECHTARANGA-POST:9781]

অভিষেকের একক ক্ষমতা খর্ব করার চালচিত্রটি বেশ আকর্ষণীয়। তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হলেও, তাঁর সমকক্ষ হিসেবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের দুই বর্ষীয়ান ও বিশ্বস্ত সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এবারের নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় সম্পূর্ণভাবে অভিষেকের কাঁধেই এসে পড়েছে। আর সেই কারণেই তাঁর ক্ষমতা একাংশ ভাগ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন যে দলে শেষ কথা তিনিই। তবে এর পেছনে আরও এক গভীর সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দলের অন্দরে তীব্র গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে অভিষেকের সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কা আঁচ করেই কি আগেভাগে এই বিকল্প চাল চাললেন তৃণমূল নেত্রী?

[TECHTARANGA-POST:9777]

বাস্তবিকই, যেভাবে বিভিন্ন মামলায় ক্রমশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফেলা হচ্ছে, তাতে তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই অভিষেকের বাড়ির নির্মাণ সংক্রান্ত বৈধতা নিয়ে দফায় দফায় নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরনিগম, যদিও ওই বাড়িগুলির কোনোটিই সরাসরি তাঁর নামে নেই। তবে আসল চিন্তা বাড়িয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির অতি-তৎপরতা। সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সরাসরি অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর আগেও কয়লা পাচার-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় একাধিকবার ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে।

[TECHTARANGA-POST:9767]

তৃণমূলের অন্দরের গভীর চর্চা বলছে, আইনি জটিলতা যদি কোনো চরম রূপ নেয় এবং অভিষেক যদি সত্যিই গ্রেফতার হন, তবে যাতে দলের রাশ আলগা না হয়, সেই আগাম প্রস্তুতিই সেরে রাখলেন মমতা। অভিষেক হঠাৎ অপসারিত বা অনুপস্থিত হলে যাতে দলের সর্বভারতীয় স্তরে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই কারণেই ডেরেক ও দোলাকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে রাখা হল। এখন দেখার, মমতার এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ক্ষুব্ধ দলের ক্ষতে প্রলেপ দিতে পারে নাকি অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দেয়।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

#AbhishekBanerjee #MamataBanerjee #TMCInternalConflict #EDNotice #TrinamoolCongress #DerekOBrien #DolaSen #BengalPolitics #KolkataNews

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *