25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তারের পরই কি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? এবার আলিপুরে জাহাঙ্গির খানের সরকারি দপ্তরে দাউদাউ আগুন, ৭ তলায় আটকে মানুষ!
পশ্চিমবঙ্গ

‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তারের পরই কি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? এবার আলিপুরে জাহাঙ্গির খানের সরকারি দপ্তরে দাউদাউ আগুন, ৭ তলায় আটকে মানুষ!

Share
‘পুষ্পা’ গ্রেপ্তারের পরই কি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? এবার আলিপুরে জাহাঙ্গির খানের সরকারি দপ্তরে দাউদাউ আগুন, ৭ তলায় আটকে মানুষ!
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চিত নাম জাহাঙ্গির খানের আলিপুরের সরকারি দপ্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বুধবার সাতসকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের এই বহুতলে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কালো কুচকুচে ধোঁয়ায় মুড়ে গিয়েছে চারপাশ। ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও, বহুতলের ৭ তলায় এক ব্যক্তির আটকে পড়ার খবর মেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, ‘পুষ্পা’র গ্রেপ্তারি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক পরেই এই অগ্নিকাণ্ড কি স্রেফ দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?

[TECHTARANGA-POST:9836]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা নাগাদ আলিপুরের ওই বহুতলের চারতলায় প্রথম আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে খবর দেওয়া হয় দমকলে। প্রথমে দমকলের ২টি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, তা হুহু করে ওপরের দিকে ছড়াতে থাকে এবং একসময়ে ৭ তলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জানলার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা, উপর থেকে খসে পড়ছে চাঙড়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে কমপক্ষে ৭টি ইঞ্জিন একযোগে কাজ করছে।

[TECHTARANGA-POST:9835]

সাধারণত সাড়ে দশটার মধ্যে সরকারি কর্মীরা এই অফিসে চলে আসেন। কিন্তু এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে সকাল থেকেই কোনো কর্মীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, গোটা এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। এরই মধ্যে জানা যায়, বহুতলের ৭ তলায় একজন ব্যক্তি আটকে পড়েছেন। দমকলকর্মীরা দড়ির সাহায্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভেতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে করা হলেও, ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9834]

দুর্ঘটনার তত্ত্ব খাড়া করা হলেও এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের এই অফিসেই নিয়মিত বসতেন দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। সম্প্রতি ‘পুষ্পা’র গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই তাঁর দপ্তরে এই অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের সন্দেহ, তদন্তের আঁচ থেকে বাঁচতে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দুর্নীতি বা বেআইনি কাজের ফাইল ও প্রমাণ লোপাট করতেই কি তবে পরিকল্পনা করে এই আগুন লাগানো হলো? যদিও দমকল এবং পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দুর্ঘটনার আসল কারণ এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *