০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দিল্লি অপরাধ মেয়ের দাম ৫ লাখ, ছেলের ৮ লাখ! খোদ রাজধানীতে বসত ‘শিশুর বাজার’, পুলিশের পাতা ফাঁদে যেভাবে খতম হলো গ্যাং
অপরাধআইন-কানুনদিল্লি

মেয়ের দাম ৫ লাখ, ছেলের ৮ লাখ! খোদ রাজধানীতে বসত ‘শিশুর বাজার’, পুলিশের পাতা ফাঁদে যেভাবে খতম হলো গ্যাং

Share
মেয়ের দাম ৫ লাখ, ছেলের ৮ লাখ! খোদ রাজধানীতে বসত ‘শিশুর বাজার’, পুলিশের পাতা ফাঁদে যেভাবে খতম হলো গ্যাং
AI GENERATED IMAGE
Share

নয়াদিল্লি: খোদ দেশের রাজধানীতে রমরমিয়ে চলছিল ‘বেবি মার্কেট’ বা শিশুর বাজার! ঠিক যেন দোকানের পণ্য, যার ওপর ‘প্রাইস ট্যাগ’ বা দামের স্টিকার লাগিয়ে দেদার বিক্রি করা হচ্ছিল ফুটফুটে সদ্যোজাতদের। কন্যাসন্তান হলে দাম ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা, আর পুত্রসন্তান হলে চড়া দর—৬ থেকে ৮ লাখ টাকা।

অরূপের চিঠিতে ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট? তৃণমূলে তোলপাড়

 তবে শেষরক্ষা হলো না। দীর্ঘদিনের গোপন নজরদারির পর রীতিমতো সিনেমার কায়দায় ফাঁদ পেতে এই ভয়ঙ্কর আন্তঃরাজ্য শিশুপাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। হাতেনাতে ৫ সদ্যোজাতকে উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ডাক্তার, দালাল ও মূল পাচারকারী-সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10138]

পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ভয়ঙ্কর চক্রটির জাল ছড়িয়ে ছিল রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে দিল্লি-এনসিআর পর্যন্ত। দেশের নানা প্রান্তের অত্যন্ত গরিব ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে টার্গেট করত এই পাচারকারীরা। অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের থেকে সদ্যোজাতদের কেড়ে বা কিনে নিয়ে এসে দিল্লির নিঃসন্তান দম্পতিদের চড়া দামে বিক্রি করাই ছিল এদের আসল ব্যবসা। তবে দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক সাধারণ নাগরিকের তৎপরতাতেই এই কুকীর্তি সামনে আসে। ওই ব্যক্তি খেয়াল করেন, এলাকার এক মহিলা প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন কোলের শিশু নিয়ে ঘুরছেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। ব্যাস, এর পরেই ক্রেতা সেজে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাঁদ পাতে পুলিশ। টানা ১৫ দিনের রুদ্ধশ্বাস অপারেশনে একে একে জালে ধরা পড়ে চক্রের রাঘববোয়ালরা।

[TECHTARANGA-POST:10125]

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই চক্রটি অত্যন্ত পেশাদারভাবে কাজ করত। শিশুদের বিক্রির জন্য এরা হাসপাতালের জাল কাগজ, ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ও মিথ্যা পরিচয়পত্র তৈরি করত। এমনকি ক্রেতা সেজে আসা নিঃসন্তান মহিলারা যাতে সমাজে নিজেদের আসল গর্ভবতী বলে দাবি করতে পারেন, তার জন্য ভুয়ো গর্ভাবস্থার নাটক সাজিয়ে হাসপাতালের ইনডোর নথি পর্যন্ত জোগাড় করে দিত এই চক্র। 

[TECHTARANGA-POST:10104]

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গত কয়েক বছরে অন্তত ৩০টি শিশুকে এইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করেছে এই গ্যাং। বর্তমানে যে ৫ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের বয়স মাত্র ৫ দিন থেকে ৪ মাসের মধ্যে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের আপাতত নিরাপদ হেফাজতে রেখে তাদের আসল বাবা-মায়ের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত দম্পতিরা টাকার লোভে নিজেদের সন্তান এদের হাতে তুলে দিয়েছিল, তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *