০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা নেতারা সরে গেলেও ভরসা আমজনতাই! ভাঙন রুখতে এবার কালীঘাটে রোজ ‘জনতার দরবার’ করবেন মমতা
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

নেতারা সরে গেলেও ভরসা আমজনতাই! ভাঙন রুখতে এবার কালীঘাটে রোজ ‘জনতার দরবার’ করবেন মমতা

Share
নেতারা সরে গেলেও ভরসা আমজনতাই! ভাঙন রুখতে এবার কালীঘাটে রোজ ‘জনতার দরবার’ করবেন মমতা
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা এখন কার্যত তাসের ঘরের মতো। প্রতিদিন যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির নেতা দল ছেড়ে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অস্তিত্বই এখন সংকটে।

[TECHTARANGA-POST:10201]

 এই চরম দুর্যোগের আবহে দলের অবশিষ্ট সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে এবং নেতাদের ‘বাঁচাতে’ এক মাস্টারস্ট্রোক ও নয়া কৌশল নিল মমতা-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। দলের একাংশের মতে, ভয় দেখিয়ে এবং বিপুল টাকার লোভ দেখিয়ে যেভাবে ভাঙন ধরানো হচ্ছে, তার পালটা দিতে এবার আর কোনো হাইপ্রোফাইল নেতা বা ভোটকুশলী সংস্থা নয়, সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপরই ভরসা রাখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেই লক্ষ্যেই এবার থেকে প্রতিদিন কালীঘাটে নিজের বাসভবনে ‘জনতার দরবার’ শুরু করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

[TECHTARANGA-POST:10200]

দলীয় সূত্রে খবর, ঋতব্রতদের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের পালটা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনে ২৪ জনের তালিকা পাঠালেও, সংগঠনের নিচের দিকের কমিটিগুলোতে নতুন করে নেতা মনোনীত করার ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো করা হবে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে, নতুন করে কাউকে পদ দিলেই তিনি প্রতিপক্ষ শিবিরের ‘টার্গেট’ হয়ে যেতে পারেন, তাই আপাতত দেখেশুনে পা ফেলার নীতি নেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10201]

 একই সঙ্গে ছাব্বিশের ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরেই কাঠগড়ায় ওঠা ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর ওপর আর একশো শতাংশ ভরসা না রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের পুরনো শিবিরের স্পষ্ট বার্তা, কোনো এজেন্সির ফর্মুলা নয়, দল চালাতে গেলে আগের মতোই মাটির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠন মজবুত করাই মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই আপদকালীন পরিস্থিতি সামলাতে এখনই আদালত বা নির্বাচন কমিশনের দরবারে রোজ রোজ না ছুটে মানুষের দরবারেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিদি।

[TECHTARANGA-POST:10189]

এই নতুন রণকৌশল অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কালীঘাটের বাসভবনে দলের নিচুতলার কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে মুখোমুখি বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কালীঘাটের বাড়িই নয়, তৃণমূলের মূল পার্টি অফিসেও সমান্তরালভাবে ‘জনতার দরবার’ চলবে, যেখানে উপস্থিত থেকে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দেবেন দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এই ম্যারাথন জনসংযোগ নিয়ে বেলেঘাটার দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এদিন এক বিস্ফোরক দাবি করেন।

হুর্মুহু বজ্রপাতে কাঁপল কলকাতা, উপড়ে পড়ল গাছ!

 তিনি বলেন, “শুধু ওই কয়েক ঘণ্টা নয়, মমতাদি এখন রাত দুটো-আড়াইটে পর্যন্ত ফোনে জেগে থেকে সমস্ত বুথ ও এলাকার পরিস্থিতি নিজে সামলাচ্ছেন।” ঋতব্রতদের কড়া ভাষায় নিশানা করে কুণাল আরও যোগ করেন, যারা ক্ষমতার লোভে দল ছেড়ে চলে গিয়েছে, তারা কোনোদিন মানুষের এলাকায় যায় না এবং কর্মীদের পাশেও থাকে না; তাই শেষ হাসি মমতাদিই হাসবেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *