০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ লাশের পাশে কান্নার নাটক স্ত্রীর! ফোনের ডিলিট হওয়া চ্যাট ফেরাতেই ফাঁস হলো ভয়ংকর পরকীয়া ও খুনের ছক
অপরাধআইন-কানুনভারতবর্ষসোশ্যাল মিডিয়া

লাশের পাশে কান্নার নাটক স্ত্রীর! ফোনের ডিলিট হওয়া চ্যাট ফেরাতেই ফাঁস হলো ভয়ংকর পরকীয়া ও খুনের ছক

Share
লাশের পাশে কান্নার নাটক স্ত্রীর! ফোনের ডিলিট হওয়া চ্যাট ফেরাতেই ফাঁস হলো ভয়ংকর পরকীয়া ও খুনের ছক
ছবি সংগৃহীত
Share

রেওয়াড়ি: খালের জল থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের নিথর দেহ দেখে পুলিশ থেকে শুরু করে পরিবার—সবাই ভেবেছিলেন চরম অবসাদ থেকেই হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল স্ত্রীকেও। কিন্তু মৃত্যুর ঠিক ২৩ দিন পর মৃত যুবকের মোবাইল ফোনের ডিলিট করে দেওয়া ডেটা ও চ্যাট রিকভার করতেই উলটে পালটে গেল যাবতীয় হিসেব। 

[TECHTARANGA-POST:10561]

হরিয়ানার রেওয়াড়ি জেলায় ২১ বছরের তরুণ মনুর রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারল, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি নৃশংস খুন। আর এই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ মনুর স্ত্রী তন্নু এবং তাঁর প্রেমিক সোনু। পরকীয়া প্রেমের কাঁটা সরাতেই স্বামীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ংকর নীল নকশা বুনেছিলেন স্ত্রী, যা দেখে স্তম্ভিত সাইবার বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ আধিকারিকরা।

ডায়মন্ড হারবার মডেলের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি দিলীপ ঘোষের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে মনু ও তন্নুর বিয়ে হয়েছিল। মনু রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তবে বিয়ের পর থেকে তন্নু তাঁর শ্বশুরবাড়িতে খুব একটা থাকতেন না, মাত্র তিন থেকে চারবার অল্পদিনের জন্য এসেছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ জুন, যখন মনু তাঁর পরিবারকে জানান যে তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন। ৮ জুন বেতন পাওয়ার পর সেই টাকা সঙ্গে নিয়ে নিজের স্কুটারে রওনা দিলেও ৯ তারিখ পর্যন্ত মনু শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছাননি এবং তাঁর কোনো খোঁজও মেলেনি। এরপর ১০ জুন রেওয়াড়ির আসলওয়াস গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে মনুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় এবং খালের পাড়েই স্কুটারটি পার্ক করা থাকায় প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলেই ধরে নেয়।

[TECHTARANGA-POST:10617]

পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার মামলা রুজু করে মনুর মোবাইল ফোনটি তাঁর পরিবারের হাতে ফেরত দিয়ে দেয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা ফোনটি অন করতেই দেখতে পান, মোবাইলের সমস্ত চ্যাট, কল হিস্ট্রি এবং ডেটা সুকৌশলে মুছে ফেলা হয়েছে। এতেই পরিবারের মনে গভীর সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁরা তড়িঘড়ি হারানো ডেটা উদ্ধারের জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হন। সাইবার ল্যাবের রিপোর্ট হাতে আসতেই জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন স্ত্রীকে ব্যাক টু ব্যাক ৪৯ বার ফোন করেছিলেন মনু, যার মধ্যে মাত্র ৩ বার ফোন ধরেছিলেন তন্নু। এই অকাট্য প্রমাণ হাতে পেয়েই পরিবার নতুন করে খুনের মামলা দায়ের করে এবং পুলিশ তন্নুকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

[TECHTARANGA-POST:10590]

পুলিশি জেরার মুখে আর বেশিক্ষণ নিজের অপরাধ চেপে রাখতে পারেননি তন্নু। কান্নার নাটক ফাঁস হতেই গোয়েন্দাদের সামনে একের পর এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দেন তিনি। তন্নু জানান, প্রেমিক সোনু এবং তাঁর আরও এক সহযোগীর সাথে মিলেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। মনু যখন তাঁর কাছে পৌঁছান, তখন সোনু ও তার বন্ধু মিলে আচমকা মনুর নাক ও মুখ চেপে ধরে তাঁকে অজ্ঞান করে দেয়।

[TECHTARANGA-POST:10562]

 এরপর পুরো ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অচৈতন্য মনুকে জীবন্ত অবস্থায় খালের জলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। প্রমাণ লোপাট করতে মনুর ফোন থেকে সমস্ত চ্যাট ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘাতক স্ত্রী তন্নু ও তাঁর প্রেমিক সোনুকে গ্রেপ্তার করেছে। এই জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকা তৃতীয় ব্যক্তির খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি শুরু করেছে রেওয়াড়ি থানার পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *