০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি অপরাধ মদ-গাঁজার ঠেকেই নাবালিকার উপর অত্যাচারের অভিযোগ; জীবিত অবস্থায় জলে ফেলে দেওয়ার ইঙ্গিত প্রাথমিক তদন্তে
অপরাধআইন-কানুনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

মদ-গাঁজার ঠেকেই নাবালিকার উপর অত্যাচারের অভিযোগ; জীবিত অবস্থায় জলে ফেলে দেওয়ার ইঙ্গিত প্রাথমিক তদন্তে

Share
মদ-গাঁজার ঠেকেই নাবালিকার উপর অত্যাচারের অভিযোগ; জীবিত অবস্থায় জলে ফেলে দেওয়ার ইঙ্গিত প্রাথমিক তদন্তে
ছবি--প্রতীকী
Share

বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, সামনে আসছে ততই শিউরে ওঠার মতো তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার অদূরে থাকা একটি ঝুপড়িতেই প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, ওই ঝুপড়িতেই নিয়মিত মদ ও গাঁজার আসর বসত। সেখানেই নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

[TECHTARANGA-POST:10680]

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের পাশাপাশি প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রভাস কৌশলে নাবালিকাকে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আনন্দ ও দিবাকর। 

[TECHTARANGA-POST:10643]

অভিযোগ, তিন অভিযুক্তই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের সময় এক অভিযুক্ত নাবালিকার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও গলায় গুরুতর আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মাথাতেও একাধিক চোটের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল অথবা শক্ত জায়গায় মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় কিছু সময় ওই ঝুপড়িতেই পড়ে ছিল নাবালিকা।

বারুইপুর কাণ্ডে কী জানালেন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্কর প্রসাদ বারুই?

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা দেহ সরানোর পরিকল্পনা করে। অভিযোগ, প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বস্তা ছিঁড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলের কাছের পুকুরেই তাকে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, তখনও নাবালিকা জীবিত ছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে। রিপোর্টে অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং-এর উল্লেখ রয়েছে, অর্থাৎ জলে ফেলার সময় নাবালিকা জীবিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, আঘাতের পাশাপাশি জলে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10657]

পুলিশের দাবি, দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর তিন অভিযুক্ত আলাদা পথে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি ভিসেরা ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles