০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্বকাপ - ২০২৬ খেলা ক্লাব ফুটবলে রাজত্ব, রেকর্ডের পাহাড়; তবুও বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকার
খেলাফুটবলবিশ্বকাপ - ২০২৬

ক্লাব ফুটবলে রাজত্ব, রেকর্ডের পাহাড়; তবুও বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকার

Share
ক্লাব ফুটবলে রাজত্ব, রেকর্ডের পাহাড়; তবুও বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকার
ফাইল ছবি
Share

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু কিংবদন্তি রয়েছেন, যাঁদের সাফল্যের তালিকা যতই দীর্ঘ হোক, একটি অপূর্ণতা চিরকাল তাঁদের নামের সঙ্গে থেকে যায়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, যাকে গোটা বিশ্ব সিআর-৭ নামে চেনে, সেই বিরল তারকাদের একজন। ক্লাব ফুটবলে তিনি জিতেছেন প্রায় সবকিছু, ভেঙেছেন একের পর এক রেকর্ড। 

[TECHTARANGA-POST:10649]

দেশের হয়ে জিতেছেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি। কিন্তু ছোটবেলা থেকে লালন করা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। আর সেই ম্যাচের সঙ্গেই বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হয়ে যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অধ্যায়। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও হাতে উঠল না কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

দারিদ্র্য থেকে বিশ্বসেরা হওয়ার গল্প

১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের ফুনশালে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বাবা হোসে দিনিস আভেইরো ছিলেন একজন সরঞ্জামকর্মী এবং মা মারিয়া দোলোরেস ছিলেন রাঁধুনি। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রোনাল্ডোর শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্যে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অসাধারণ। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনের স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রা।

ক্লাব ফুটবলে সোনালি অধ্যায়

২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পরই বিশ্ব ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেন রোনাল্ডো। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রতিভা আরও বিকশিত হয়। ২০০৯ সালে রেকর্ড ট্রান্সফারে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। 

[TECHTARANGA-POST:10695]

এরপর খেলেছেন জুভেন্টাসে, আবার ফিরেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। বর্তমানে সৌদি আরবের আল-নাসর ক্লাবে খেলছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। রোনাল্ডোর ক্লাব ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও তাঁর কিংবদন্তি হওয়ার প্রমাণ দেয়। ১১০০-এর বেশি ম্যাচে করেছেন ৮২০-এর বেশি গোল, রয়েছে প্রায় ২৫০টি অ্যাসিস্ট। জিতেছেন ৩৫টির বেশি ট্রফি। পাঁচবার পেয়েছেন ব্যালন ডি’অর, চারবার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট। পাঁচবার জিতেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং হয়েছেন প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতা।

দেশের হয়েও অসাধারণ সাফল্য

২০০৩ সালে পর্তুগালের জাতীয় দলে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। দেশের হয়ে খেলেছেন ২৩০-এর বেশি ম্যাচ এবং করেছেন ১৪০-এর বেশি গোল। ২০১৬ সালে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা। বিশ্বকাপের মঞ্চেও রয়েছে তাঁর একাধিক রেকর্ড। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ মোট ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপে তাঁর রয়েছে ৩০টি ম্যাচ, ১০টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট। পাঁচটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করা এবং টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজিরও রয়েছে তাঁর।

শেষটা হলো অপূর্ণতায়

[TECHTARANGA-POST:10692]

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের স্বপ্ন থেমে যায় শেষ ষোলোর মঞ্চে। স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হার দিয়ে শেষ হয় রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ যাত্রা। বিশ্বকাপ ট্রফি হয়তো তাঁর হাতে উঠল না, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। তাঁর গোল, পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা এবং সাফল্যের গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পূর্ণতার মাঝেও থেকে গেল একটি অপূর্ণতা। বিশ্বকাপ নয়, কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসাতেই অমর হয়ে থাকবেন সিআর-৭।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *