25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ বুলেট কোথায় লুকানো? এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসের ময়নাতদন্তে এবার ডিজিটাল এক্স-রে! তোলপাড় বারুইপুর
পশ্চিমবঙ্গ

বুলেট কোথায় লুকানো? এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসের ময়নাতদন্তে এবার ডিজিটাল এক্স-রে! তোলপাড় বারুইপুর

Share
বুলেট কোথায় লুকানো? এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসের ময়নাতদন্তে এবার ডিজিটাল এক্স-রে! তোলপাড় বারুইপুর
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর এবার ময়নাতদন্ত ঘিরে চরম তৎপরতা রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে। খতম হওয়া অপরাধীর শরীরের ঠিক কোথায় গুলি লেগেছে এবং বুলেটের সঠিক অবস্থান কী, তা নিখুঁতভাবে জানতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রের। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) কড়া গাইডলাইন মেনে ইতিমধ্যেই প্রভাসের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি হাইপ্রোফাইল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ড গঠন করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকদের এই বিশেষ নজরদারিতেই সম্পন্ন হতে চলেছে প্রভাসের মরদেহের কাটাছেঁড়া। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে চিকিৎসকমহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।

[TECHTARANGA-POST:10753]

পুলিশি এনকাউন্টারে প্রভাসের মৃত্যুর পর প্রথমে তার দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য কাঁটাপুকুর মর্গে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ময়নাতদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দেহটি স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। হাসপাতালের ইডেন বিল্ডিংয়ের সামনে দীর্ঘক্ষণ শববাহী গাড়িতেই কড়া সুরক্ষায় রাখা ছিল প্রভাসের নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের মূল প্রক্রিয়া শুরুর আগেই প্রভাসের দেহের ডিজিটাল এক্স-রে করানো হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এনকাউন্টারের সময় চালানো গুলির অভিমুখ কোন দিকে ছিল এবং তা শরীরের ঠিক কোন অংশে আটকে রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের আগে ডিজিটাল এক্স-রের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।

[TECHTARANGA-POST:10743]

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়মকে মান্যতা দিয়ে গঠিত এই বিশেষ বোর্ডে রয়েছেন রাজ্যের তিনটি প্রথম সারির সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা। এই বোর্ডে রয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শাশ্বত বিশ্বাস, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সায়ক শোভন দত্ত এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর অলোক মজুমদার। কোনো রকম খামতি যাতে না থাকে, তার জন্য ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফরেন্সিক প্রমাণের স্বার্থে মরদেহের ন্যূনতম ২৫টি স্টিল ফোটোগ্রাফি করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই বোর্ডের চিকিৎসকদের জন্য।

[TECHTARANGA-POST:10731]

গত রবিবার বারুইপুরের সেই ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার দিনভর ম্যারাথন জেরার পর রাত্তির পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই অকুস্থলে রওনা দেন সিটের (SIT) সদস্যরা। উদ্দেশ্য ছিল, ধৃতের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরেই ঘটে যায় সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। আচমকাই সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয় প্রভাস এবং মুহূর্তের মধ্যে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দেয়। বিপদ বুঝে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মূল অভিযুক্ত প্রভাস। সেই রোমহর্ষক এনকাউন্টারের পর এবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *