কলকাতা: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য। আমজনতা থেকে শুরু করে কামদুনি ও হাঁসখালির নির্যাতিতাদের পরিবার যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পুলিশের এই বিদ্যুতগতির অ্যাকশনে খুশিতে ডগমগ, ঠিক তখনই এই এনকাউন্টারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সমাজের একাংশ। সত্য আড়াল করতেই প্রভাসকে বলি দেওয়া হলো কিনা— বাম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর তোলা এই প্রশ্ন ঘিরেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নিজের চেনা মেজাজে চাঁচাছোলা ভাষায় তাঁদের আক্রমণ করে দিলীপবাবু সাফ বললেন, এ দেশে অপরাধ বাড়ার পেছনে আসল দায়ী কমিউনিস্ট আর এই বুদ্ধিজীবীরাই, তাই জনতা যেন ওদের মাথায় ডিম ছোড়ে।
এনকাউন্টার ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনায় দিলীপ ঘোষ
কলকাতায় থাকলে প্রতিদিন সকালেই নিউ টাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে যান দিলীপ ঘোষ, আর সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক রাজনৈতিক বোমা ফাটানো তাঁর পুরোনো অভ্যাস। বৃহস্পতিবার সকালেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে বিরোধীদের ও বুদ্ধিজীবী মহলের তৈরি করা খটকা নিয়ে প্রশ্ন করা হতেই মেজাজ হারান দিলীপ। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, এই লোকগুলো আসলে বুদ্ধিজীবীর মুখোশ পরা সমাজবিরোধী। যেকোনো অপরাধী সাজা পেলেই এদের দরদ উথলে ওঠে আর এরা আন্দোলন শুরু করে দেয়, যাকে বলে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। এর পরেই এক ধাপ এগিয়ে আমজনতার উদ্দেশে তিনি নিদান দেন, এদের জন্য সমাজটা নষ্ট হচ্ছে, তাই এদের দেখলেই মাথায় ডিম ছুড়ে মারা উচিত।
[TECHTARANGA-POST:10749]
দিলীপ ঘোষ যখন প্রকাশ্যেই বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ডিম ছোড়ার মতো চরম দাওয়াই দিচ্ছেন, তখন কিন্তু রাজ্য বিজেপির অন্দরেই এই নিয়ে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। দিলীপবাবুর এই ‘দাবাং’ মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের আচরণ বা মন্তব্য কোনোভাবেই বাংলার সুস্থ সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। ফলে এনকাউন্টার ইস্যুতে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে গিয়ে উলটে দিলীপের এই চাঁচাছোলা বয়ান পদ্ম শিবিরের ভেতরেই নতুন কোনো অস্বস্তি তৈরি করল কিনা, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
[TECHTARANGA-POST:10741]
সমাজকর্মী ও বামেদের একাংশ কাউকে আড়াল করার তত্ত্ব খাড়া করলেও, বারুইপুরের এই বিচার নিয়ে খোদ অপরাধীর পরিবারই কিন্তু কোনো প্রশ্ন তোলেনি। এনকাউন্টারে নিহত প্রভাসের মা ও স্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সে অপরাধ করেছিল, তাই শাস্তি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের বড় অংশও মনে করছে, এই ধরনের কড়া এবং তাত্ক্ষণিক সাজা হলে তবেই ভবিষ্যতে অপরাধীরা এই ধরনের জঘন্য কাজ করার আগে দশবার ভাববে। ৬ সদস্যের বিশেষ সিট (SIT) গঠন করে যেভাবে ঝড়ের গতিতে ঘটনার কিনারা ও অপরাধীকে খতম করা হলো, তাতে আপাতত রাজ্যবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও রাজনীতির ময়দানে কিন্তু জল বহুদূর গড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে।
Leave a comment