25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন দখল, ৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের দাবি পেন্টাগনের
Uncategorized

হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন দখল, ৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের দাবি পেন্টাগনের

Share
হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন দখল, ৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের দাবি পেন্টাগনের
এই সেই সাবমেরিন। ছবি : এক্স
Share

তেহেরান: মধ্যপ্রাচ্যে ফের চরম উত্তেজনার পারদ চড়ল। 

তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর কৌশলের জবাবে এবার মার্কিন নৌসেনার ওপর বড়সড় পাল্টা আঘাত হানল তেহরান। স্ট্রেইট অফ হরমুজ অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীর মুখ থেকে আমেরিকার এক অত্যানুধিক চালকহীন সাবমেরিন বা আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেসেল (ইউইউভি) নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করল ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অফিশিয়াল সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’-এ এই চাঞ্চল্যকর সাফল্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিল।

আইআরজিসি-র নৌসেনা জানিয়েছে, এক জটিল ও গোপন গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে আমেরিকার এই আধুনিক ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) সাবমেরিনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্বের অন্যতম আধুনিক পানির নিচের প্রযুক্তিসম্পন্ন ভেসেল। ইরানের তরফে দখলকরা  সাবমেরিনটির ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্দুরিল কোম্পানির তৈরি এই ডাইভ-এলডি সাবমেরিনটি সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৬ হাজার মিটার (১৯,৭০০ ফুট) গভীরতায় টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। প্রতিটির মূল্য আনুমানিক ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার।

এই ঘটনার পর অবশ্য সুর নরম রেখে সাফাই দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম)-এর দাবি, ওই ড্রোনটি কোনো স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করছিল না এবং এতে কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, “আঞ্চলিক সমুদ্রে নজরদারি চালানোর সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোনো মডেলের ড্রোনটি বিকল হয়ে গিয়েছিল।” তবে সেটি ইরান বাজেয়াপ্ত করেছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন।

অন্যদিকে, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পারস্য উপসাগরে উত্তাপ বাড়িয়েছে সেনটকম-ও। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হানার জবাব হিসেবে ইরানের ৫টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করার দাবি করেছে আমেরিকান ফোর্সেস। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে ইরানের সবকটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্স সহ মোট ২৭টি বিমান সংস্থার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়াতে এবং অস্ত্র পরিবহনে এই বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আইআরজিসি।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোশাল মিডিয়া এক্স-এ এক বার্তায় তিনি সাফ জানান, “ইরান সব সময় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে। কিন্তু আগ্রাসনকারীদের উপযুক্ত শিক্ষা না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ সংগ্রাম পূর্ণ শক্তিতে জারি থাকবে।” ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার রেশ যে সহজে কমছে না, তা নিশ্চিত।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *