০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ WB Government: রাজ্যে নজিরবিহীন অভিযান! মুহূর্তের মধ্যে ২৫২ মাদ্রাসায় ঝুলল তালা, আরও ১০০ মাদ্রাসায় কড়া শোকজ নবান্নের
পশ্চিমবঙ্গ

WB Government: রাজ্যে নজিরবিহীন অভিযান! মুহূর্তের মধ্যে ২৫২ মাদ্রাসায় ঝুলল তালা, আরও ১০০ মাদ্রাসায় কড়া শোকজ নবান্নের

Share
WB Government: রাজ্যে নজিরবিহীন অভিযান! মুহূর্তের মধ্যে ২৫২ মাদ্রাসায় ঝুলল তালা, আরও ১০০ মাদ্রাসায় কড়া শোকজ নবান্নের
প্রতীকী ছবি
Share

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা পরিকাঠামো ও নথিপত্র যাচাইয়ে এক নজিরবিহীন ও কঠিন পদক্ষেপে নামল রাজ্য সরকার। প্রথম দফার অভিযান শেষ হতেই মাথায় হাত একাধিক প্রতিষ্ঠানের। রাজ্যজুড়ে একযোগেই ঝুলিয়ে দেওয়া হলো ২৫২টি মাদ্রাসার দরজায় তালা। শুধু বন্ধ করাই নয়, পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কড়া শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে। এই খবরের কথা চাউর হতেই শিক্ষা মহল থেকে রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে চরম তোলপাড়।

প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ২২ জুলাই কলকাতা সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অসংগঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর এক বিশাল গোপন সমীক্ষা চালায় রাজ্য সরকারের ‘সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর’। প্রতিটি জেলায় কতগুলি বৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং কতগুলি নিয়ম না মেনে চলছে, তা স্পষ্ট করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। সেই সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোের্ট হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পদস্থ আধিকারিকদের। রিপোের্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি কোনো অনুমোদনই নেই। এদের বেশিরভাগই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলির পাঠক্রম, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার পরিকাঠামোর চরম গলদ প্রকাশ পেতেই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বাঁচে দপ্তর।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, রাজ্যজুড়ে ঠিক কতগুলি অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কতগুলি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা চলছে, তা জেলায় জেলায় সরেজমিনে তদন্ত করে তালিকা তৈরি করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই সাঁড়াশি অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনগুলি। সেই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রথম দফায় ২৫২টি সম্পূর্ণ অনুমোদনহীন মাদ্রাসা এক লহমায় বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংশ্লিষ্ট সমস্ত জেলাশাসকদের কাছে ইতিময়ধ্যেই পাঠাল হয়েছে নোটিসের কপি, যাতে দ্রুত পদক্ষেপ কার্যকর করা যায়।

অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে কড়া শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিকাঠামোয় গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের বৈধ প্রমাণপত্র পেশ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও যে সরকারের বুলডোজার চলবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এ প্রসঙ্গে সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে শুরু করে ২২টি জেলায় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ সুচারুভাবে হয়েছে। যাদের বৈধ অনুমতি রয়েছে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সেগুলি যথারীতি চলবে। তবে পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “বহুদিন ধরে অনিয়মের নানা অভিযোগ আসছিল। অনুমোদন নিয়ে যারা নিয়ম মেনে চলছে তাদের সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু যেখানে সেখানে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান খুলে উৎপাত চালানোর সুযোগ আর কাউকেই দেওয়া হবে না।” সরকারের এই পদক্ষেপে আপাতত চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে।

[TECHTARANGA-POST:12587]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *