০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home Uncategorized প্যানিক বোতামেও মেলেনি সাড়া, মাঝরাস্তায় হেনস্তা অভিনেত্রীকে!
Uncategorized

প্যানিক বোতামেও মেলেনি সাড়া, মাঝরাস্তায় হেনস্তা অভিনেত্রীকে!

Share
চুপিচুপি বাগদান সারলেন আলিয়ার দিদি শাহীন! তাঁর হবু বর ঈশান আসলে কে?
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: রাতের তিলোত্তমায় ফের খসে পড়ল নারী নিরাপত্তার ফাঁপা বিজ্ঞাপন! 

আলোর রোশনাই আর উৎসবের আবহের মধ্যেই আরও একবার চরম নৈরাজ্যের মুখোমুখি শহর কলকাতা। শুটিং সেরে অ্যাপ-ক্যাবে বাড়ি ফেরার পথে রাতের রাস্তায় হেনস্তার শিকার হলেন টেলি-পর্দার পরিচিত মুখ, ‘বাঘিনী’ ধারাবাহিকের অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। 

এই ঘটনার পর শহরের অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা এবং ট্র্যাফিক পুলিশের নিষ্কর্ষহীন নজরদারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়াল নেট নাগরিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, রাতের শহরে একা একটা মেয়ে সুরক্ষিতভাবে বাড়ি ফিরবে, এই ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকু দেওয়ার ক্ষমতা কি রাজ্য প্রশাসন হারিয়ে ফেলেছে?

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। শুটিং শেষ করে হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমা হলের সামনে থেকে অনলাইনে একটি ক্যাব বুক করেছিলেন সম্পিতা। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালকের অস্বাভাবিক আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। 

বিপদ বুঝে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি থামাতে বললেও চালক প্রথমটায় কর্ণপাতই করেনি বলে অভিযোগ। শেষে জোরাজুরি করতে গাড়ি থামালে শুরু হয় ভাড়া নিয়ে বচসা। সম্পিতার অভিযোগ, দমদম পর্যন্ত বুকিং ছিল বলে মাঝপথে নেমে যাওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ ভাড়ার জন্য জোড়াজুড়ি শুরু করে ওই চালক। টাকা মেটাতে অস্বীকার করলে ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।

বাধ্য হয়ে ওই অবস্থায় ব্যাগ বাঁচাতে চালকের গাড়ির পিছু ধাওয়া করতে হয় অভিনেত্রীকে। হাত-পা কাঁপা অবস্থায় কোনও মতে নিজের ব্যাগ উদ্ধার করেন তিনি। সম্পিতার চাঞ্চল্যকর দাবি, ক্যাবের অ্যাপে থাকা জরুরি বা ‘প্যানিক’ বোতামে বারবার সাহায্য চেয়েও মেলেনি কোনও সাড়া। শেষমেশ কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ফেসবুক লাইভে কান্নাভেজা গলায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন সাধারণ মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে।

ঘটনাটি কেবল এক অভিনেত্রীর হেনস্তা নয়, তা পুরো অ্যাপ-ক্যাব ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটাকে বাইরে এনে ফেলেছে। পুলিশের দাবি ছিল, প্রতিটি অ্যাপ-ক্যাবের চলন পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি বোতাম টিপলেই লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে বার্তা পৌঁছায়। 

কিন্তু মাঝরাস্তায় চালক কেন বেপরোয়া হওয়ার সাহস পেল? কেন অ্যাপের জরুরি নম্বর কার্যকর ছিল না? কলকাতা পুলিশের সেই ঘটা করে তৈরি করা ‘সেফ সিটি’র সাইনবোর্ডগুলো তা হলে কার স্বার্থে? একের পর এক হেনস্তার ঘটনাপ্রবাহে প্রমাণিত, কলকাতা আজও তার মেয়েদের জন্য ভরসাজনক হতে পারল না।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *