নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন যুদ্ধের দামামা, তখন ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক জলপথে উত্তেজনার পারদ চড়লেও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে ছাড়পত্র দিল তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই সবুজ সংকেত মিলেছে।
[TECHTARANGA-POST:7223]
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে রাখলেও রাশিয়া ও চিনের পাশাপাশি এবার ভারতকেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হলো। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারতের দুটি অয়েল ট্যাঙ্কার— ‘পুষ্পক’ ও ‘পরিমল’ ইতিমধ্যেই নির্বিঘ্নে এই জলপথ পারাপার করছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলিকে পারাপারের ক্ষেত্রে তারা সবরকম সহযোগিতা করবে এবং কোনওরকম আক্রমণ করা হবে না।
[TECHTARANGA-POST:7222]
তবে এই ছাড়ের ক্ষেত্রে ইরান একটি কড়া শর্ত রেখেছে। তেহরানের সাফ কথা, ইউরোপ, আমেরিকা বা ইজরায়েলের কোনও ট্যাঙ্কারকে এই পথে যেতে দেওয়া হবে না। এমনকি যদি ওই দেশগুলি থেকে তেল নেওয়া হয়, তবে ভারতীয় ট্যাঙ্কারকেও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়তে হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ভারসাম্য বজায় রাখার নীতির ফলেই ইরান এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:7217]
কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের এক বিরাট কৌশলগত ও কূটনৈতিক জয়। যখন বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার এবং জোগান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের জাহাজ বের করে আনা ভারতের দূরদর্শী বিদেশনীতিরই পরিচয়। বিশেষজ্ঞ শুভাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ভারত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছে এবং ইরানও বুঝতে পেরেছে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা তাদের জন্যও জরুরি।
[TECHTARANGA-POST:7224]
ইরানের এই পদক্ষেপে ভারতে জ্বালানি সংকটের মেঘ কিছুটা হলেও কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়ে ভারতের এই ‘স্পেশাল এন্ট্রি’ বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির গুরুত্বকে আরও একবার প্রমাণ করল।
Leave a comment