কলকাতা: পুজোর পাঁচটা দিন কীভাবে যে চোখের পলকে কেটে যায়, তার টের পাওয়া যায় না। বিজয়া দশমীর বিষাদ কাটিয়ে ফের দিন গুনছে বাঙালি। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী বছর অক্টোবরের শুরুতেই দুর্গাপুজো। তাই এখন থেকেই ২০২৭ সালের পুজোকে ঘিরে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন কলকাতার একাধিক পুজো উদ্যোক্তা। থিম থেকে মণ্ডপসজ্জা, সবকিছু নিয়েই আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কয়েকটি পুজো কমিটি শিল্পীদের দায়িত্বও দিয়ে দিয়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে থিমশিল্পী অনির্বাণ দাসকে ঘিরে আগ্রহ তুঙ্গে। সূত্রের খবর, আগামী বছরের পুজোর জন্য তাঁকেই বেছে নিয়েছে কাশী বোস লেন এবং নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ। চলতি বছরেও দুই পুজোর মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বভার ছিল অনির্বাণের উপর। অন্য দিকে, ৭৫ বছর পূর্তির বিশেষ আয়োজনের জন্য শিল্পী রিন্টু দাসের উপর ভরসা রেখেছে মাস্টারদা স্মৃতি সঙ্ঘ।
চলতি বছরের পুজোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছে বেহালা ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন। তাই আগামী বছরও মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকছেন শিল্পী সনাতন দিন্ডা। অন্যদিকে, বছর দুয়েকের বিরতি কাটিয়ে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবে ফিরছেন শিল্পী রাজু সরকার। এবছর তেলিপাড়া যুবক সঙ্ঘের মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী ভবতোষ সুতার। পর আগামী বছরও তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। দমদম পার্ক ভারতচক্রও ভরসা রাখছে শিল্পী মানস দাসের উপর। পাশাপাশি, আগামী বছরও বেহালা দেবদারু ফটকে দেখা যেতে পারে শিল্পী উপাসনা চট্টোপাধ্যায়কে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত ফের উত্তর কলকাতার চালতাবাগানের পুজোর দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়েছেন শিল্পী অদিতি চক্রবর্তী।
তবে শুধু শিল্পী নির্বাচন নয়, পুজোর নিরাপত্তা এবং মণ্ডপ পরিকল্পনা নিয়েও সতর্ক থাকার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। চোরবাগানের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে খিদিরপুর ২৫ পল্লি দুর্গোৎসব কমিটির প্রবীণ কর্তা কালী সাহা জানিয়েছেন, আগে থেকেই শিল্পীদের নাম ঘোষণা করার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। তবে শিল্পী চূড়ান্ত করার আগে তাঁর পরিকল্পনা, শৈল্পিক ভাবনা এবং মণ্ডপের পরিসর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মনে করেন।
Leave a comment