25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized বিগ ব্যাশে বেসরকারি পুঁজি, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে আইপিএল মালিকদের দাপট!
Uncategorized

বিগ ব্যাশে বেসরকারি পুঁজি, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে আইপিএল মালিকদের দাপট!

Share
বিগ ব্যাশে বেসরকারি পুঁজি, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে আইপিএল মালিকদের দাপট!
ক্রিকেটের বেসরকারিকরণে লাভবান আইপিএল মালিকরা। ফাইল ছবি
Share

মেলবোর্ন: বিশ্ব ক্রিকেটে যে বাণিজ্য সাম্রাজ্যের রাশ এতদিন ভারতীয় কোটিপতিদের হাতেই বেশি ঘেঁষে ছিল, তাতে এবার শেষ দুর্গটিও ভেঙে পড়ল। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়া অবশেষে তাদের দরজা খুলে দিল বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য। 

২০২৭-২৮ মরসুম থেকে বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মেলবোর্ন রেনিগেডস’-এর ১০০ শতাংশ মালিকানা বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। এতদিন ধরে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আইপিএল (IPL) দলগুলির মালিকরা জাঁকিয়ে বসলেও, একমাত্র অস্ট্রেলিয়াই এতদিন নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বাঁচিয়ে বাইরে থেকে কোটি কোটি টাকার বেসরকারি পুঁজি ঢোকা আটকে রেখেছিল। কিন্তু এবার সেই লাল ফিতের ফাঁস গলে ক্যাঙ্গারুর দেশেও পা রাখতে চলেছে কর্পোরেট সাম্রাজ্য, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্র একঝটকায় পুরোপুরি বদলে দিতে চলেছে।

প্যাট কামিন্সদের মতো শীর্ষ সারির অস্ট্রেলীয় তারকারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে সতর্কবার্তা একটাই,বেসরকারিকরণের কাজটা যেন সঠিক নিয়মনীতি মেনে হয়। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় অংশ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের চরম বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিলুপ্ত হতে পারে। 

তবে বিরোধ যাই থাক, রিল্যায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ কিংবা জিএমআর/জেএসডব্লিউ-র মতো ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলির সামনে এখন সুবর্ণ সুযোগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের পর এবার মেলবোর্ন-সিডনির বুকেও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির পতাকা ওড়ার অপেক্ষা।

বিগ ব্যাশে এই পদার্পণ ভারতীয় মালিকদের এক অদ্ভুত ক্ষমতা এনে দিচ্ছে। এখন থেকে তাঁরা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ক্যামেরন গ্রিন কিংবা টিম ডেভিডের মতো বিশ্বমানের তারকাদের বছরভর সমস্ত টুর্নামেন্টের জন্য চুক্তিভুক্ত করতে পারবেন। 

যার ফলে এক একটি ব্র্যান্ডের ছাতার তলায় আইপিএল, এসএ২০, এমএলসি এবং বিবিএল—সবকটি লিগেই এই একই তারকাদের খেলানো সম্ভব হবে। দেশীয় বোর্ড ছেড়ে ক্রিকেটারদের পুরোপুরি ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর হয়ে ওঠার যে ঝোঁক ইদানীং দেখা যাচ্ছে, এই পদক্ষেপ তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পুরো লাগামটা নিজেদের হাত থেকে ছেড়ে দিতে নারাজ। লিগ পুরোপুরি খোলামেলা করার বদলে তারা বেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি, খেলোয়াড়দের লভ্যতা, সম্প্রচার স্বত্ব ও প্লেয়ারদের বেতনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সমস্ত ক্ষমতা ক্রিকেট বোর্ডের হাতেই থাকবে। 

শুধু তা-ই নয়, কে বা কারা ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনতে পারবে, সেই ক্রেতা বাছাইয়ের চূড়ান্ত ভেটো দেওয়ার অধিকারও থাকছে বোর্ডের হাতে। খবর মিলেছে, মালিকানার বৈচিত্র্য ধরে রাখতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে বড়জোর দুই বা তিনটি দল কেনার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। প্রতিটি দলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৫ থেকে ২০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (১৫০-২০০ মিলিয়ন AUD) ধরা হয়েছে। রেনিগেডসকে শতভাগ বেচে দেওয়া হলেও অন্যান্য দলের ক্ষেত্রে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আইপিএল মালিকরা দল কিনলেই কি বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মাদের মতো ভারতীয় পুরুষ তারকাদের অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দেখা যাবে? উত্তর হলো, এখনই নয়। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) এখনও পর্যন্ত সক্রিয় ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার অনুমোদন দেয়নি। 

তবে স্মৃতি মান্ধানা বা হারমানপ্রীত কৌরদের মতো নারী ক্রিকেটাররা ইতিমধ্যেই বিবিএল-এ চুটিয়ে খেলছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রেও অদূর ভবিষ্যতে প্রাক্তন বা জাতীয় চুক্তির বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের ছাড়পত্র দিলে আইপিএল মালিকরাই লাভবান হবেন। আপাতত মূল লক্ষ্য, অস্ট্রেলিয়া থেকে খুদে প্রতিভা খুঁজে নিজেদের গ্লোবাল অ্যাকাডেমির মাধ্যমে বিশ্বমানের তারকা বানিয়ে নেওয়া।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *