25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্স ও টাকার ফোয়ারা! নেপাল পুলিশের জালে বেলঘরিয়ার জালনোট কারবারি দম্পতি
Uncategorized

বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্স ও টাকার ফোয়ারা! নেপাল পুলিশের জালে বেলঘরিয়ার জালনোট কারবারি দম্পতি

Share
বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্স ও টাকার ফোয়ারা! নেপাল পুলিশের জালে বেলঘরিয়ার জালনোট কারবারি দম্পতি
Share

বেলঘরিয়া: কামারহাটি পুরসভার শরৎপল্লির একটি অভিজাত আবাসন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো সারাক্ষণই সেখানে উৎসবের মেজাজ। দামী মদের গ্লাস, টাকার পাহাড় আর মাঝেমধ্যেই সুদূর রাশিয়া থেকে আসা বেলিড্যান্সারদের নাচানাচি— এলাকাবাসীর কাছে এই বাড়িটি ছিল এক রহস্যের খনি। প্রতিবেশীরা জানতেন দীপা ধর ও তাঁর স্বামী অরিন্দম ধরের অগাধ প্রতিপত্তি, কিন্তু এই বিপুল ঐশ্বর্যের উৎস কী, তা ছিল সকলের অজানা। অবশেষে রবিবার নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে ফাঁস হলো সেই অন্ধকার জগতের কাহিনী। জালনোট পাচারের অভিযোগে বেলঘরিয়ার এই দম্পতি সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও রয়েছেন।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির বাসিন্দা দীপার সঙ্গে কয়েক বছর আগে সোনারপুরের অরিন্দমের বিয়ে হয়। ২০২৪ সালে তাঁরা নেপালে যান এবং সেখান থেকেই সম্ভবত শুরু হয় এই আন্তর্জাতিক জালনোটের কারবার। গোয়েন্দাদের দাবি, ভিডিও কলের মাধ্যমে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীদের জালনোট দেখিয়ে প্রলোভন দিত এই দম্পতি। বিভিন্ন সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করলে তা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলত প্রতারণার জাল। আর সেই অবৈধ কারবারের টাকায় চলত চরম বিলাসিতা। বাড়িতে নামী বেলিড্যান্সারদের নিয়ে আসর বসানো থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের নিয়ে চলত নৈশপার্টি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রবিবার তাঁদের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে গোয়েন্দারা লোহার ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ অর্থ এবং প্রায় ৭০ কোটি টাকার জালনোট উদ্ধার করেছেন। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১২টি মোবাইল ফোন ও বিলাসবহুল গাড়ি।

এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্র এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, কামারহাটি এলাকায় বারবার বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বা জালনোট উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই বিশাল পরিমাণ জালনোটের উৎস কোথায় এবং এর পেছনে আর কোনও প্রভাবশালী যোগসূত্র আছে কি না। নেপাল পুলিশের গোয়েন্দারা এখন ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন। বেলঘরিয়ার মতো শান্ত এলাকায় এমন আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের হদিশ মেলায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *