রূপনগর: কেটে গেছে দীর্ঘ ২৬টি বছর। শেষমেশ পঞ্জাবের রূপনগর জেলার ভাকরা খাল থেকে একটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মারুতি ওমনি ভ্যান উদ্ধারের পর অবসান ঘটল এক বুকচাপা দীর্ঘশ্বাসের। ওই খালের ৩২ ফুট গভীর জলের তলা থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ির জং ধরা কঙ্কালসার কাঠামোর ভিতর থেকেই মিলেছে চারজনের কঙ্কালের অবশিষ্টাংশ। এনআইএ বা সিবিআই নয়, স্রেফ একজন স্থানীয় ডুবুরির অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে সমাধান হল ২০০০ সালের এক মর্মান্তিক ও রহস্যময় অন্তর্ধান রহস্য।
[TECHTARANGA-POST:9314]
ঘটনার সূত্রপাত ২০০০ সালের ১৭ অক্টোবরে। রূপনগরের কিরাতপুর সাহিবের কোটলা গ্রামের বাসিন্দা তেজ রাম, মুন্নি লাল, সুরজিৎ সিং এবং সুরজিতের ৮ বছরের ছেলে কালু একটি মারুতি ওমনি ভ্যানে চড়ে এক আত্মীয়ের বিয়ে বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। কিন্তু, মাঝপথেই নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। আসলে তাঁদের গাড়িটি কিরাতপুর সাহিব থানা এলাকারনাক্কিয়ান গ্রামের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভাকরা খালের তীব্র স্রোতে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় দেহ এবং গাড়ির খোঁজে প্রশাসন তো বটেই, এমনকী পরিবারের তরফ থেকেও দেরাদুন, হরিদ্বার ও রাজস্থান থেকে পেশাদার ডুবুরি এনে প্রায় একমাস ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু, খালের তীব্র জলের চাপ আর তলদেশের লোহার বর্জ্যের কারণে ভ্যান বা মৃতদেহ — কোনও কিছুরই হদিস মেলেনি।
[TECHTARANGA-POST:9331]
সুদীর্ঘ ২৬ বছর ধরে স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তা বুকে নিয়ে বেঁচেছিল পরিবারগুলি। এমনকী, আইনি মৃত্যুর প্রমাণ বা ডেথ সার্টিফিকেট না থাকায় চরম আর্থিক ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। ডুবুরিদের খরচ জোগাতে জমি এবং দুধের দোকান পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সর্বস্বান্ত পরিবার দুটি।
[TECHTARANGA-POST:9320]
অবশেষে গত রবিবার নাগাদ কাটল এই রহস্যের জট। কমলপ্রীত সিং সাইনি নামে এক স্থানীয় সমাজকর্মী তথা ডুবুরি ভাকরা খালে অন্য এক নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ খুঁজতে নেমেছিলেন। তখনই খালের তলদেশের কাদার মধ্যে একটি গাড়ির কাঠামো তাঁর চোখে পড়ে। জলের তীব্র স্রোতের ধাক্কা সামলে তিনি ভারী দড়ি দিয়ে গাড়িটি বাঁধেন এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহায়তায় ট্র্যাক্টর দিয়ে টেনে গাড়িটিকে জল থেকে ডাঙায় তোলা হয়। দেখা যায় দীর্ঘকাল জলের তলায় থাকায় ভ্যানটির ছাদ এবং পিছনের অংশ পুরোপুরি ক্ষয়ে গেছে, কেবল সামনের অংশটুকু টিকে রয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:9308]
গাড়ির ভিতর থেকে চারজনের কয়েকটি হাড়গোড় এবং জুতো উদ্ধার হয়েছে। সবথেকে হৃদয়বিদারক বিষয় হল, ওই ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে ৮ বছরের শিশুটির স্কুলের ইউনিফর্মের টুকরো এবং জামা প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে! রূপনগরের পুলিশ সুপার মনিন্দর সিং জানিয়েছেন, কঙ্কালের অবশিষ্টাংশগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করার পরেই সরকারিভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে, গ্রামবাসী গাড়িটি চিনেছে। নিখোঁজ পরিজনদের শেষ স্মৃতিটুকু ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এরপর উদ্ধার হওয়া অবশিষ্টাংশগুলি কিরাতপুর সাহিবের গুরুদ্বারা পাতালপুরী সাহিবে নিয়ে গিয়ে ধর্মীয় আচার মেনে প্রার্থনা করার পর শতদ্রু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment