০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ বর্ধমানে রেলের উচ্ছেদ অভিযান: গুঁড়িয়ে গেল ৩০ দোকান, পথে বসলেন ১৫০ ব্যবসায়ী!
পশ্চিমবঙ্গ

বর্ধমানে রেলের উচ্ছেদ অভিযান: গুঁড়িয়ে গেল ৩০ দোকান, পথে বসলেন ১৫০ ব্যবসায়ী!

Share
বর্ধমানে রেলের উচ্ছেদ অভিযান: গুঁড়িয়ে গেল ৩০ দোকান, পথে বসলেন ১৫০ ব্যবসায়ী!
ছবি সংগৃহীত
Share

বর্ধমান: পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সারি সারি দোকানপাঠ। রেলের এই মেগা উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এক লহমায় কর্মহীন হয়ে পড়লেন প্রায় ১৫০ মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের অধীনস্থ বর্ধমান রেল স্টেশন সংলগ্ন ৩ নম্বর রেল গেট এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষোভে ও কান্নায় ভেঙে পড়েন বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে আসা স্থানীয় দোকানদাররা।

[TECHTARANGA-POST:9327]

রেল সূত্রে খবর, বর্ধমান রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং স্টেশন চত্বর সম্প্রসারণের কাজের জন্যই এই উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমি দখল করে বেআইনিভাবে এই দোকানগুলি গড়ে উঠেছিল। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও জায়গা খালি না করায় অবশেষে এদিন সকালে আরপিএফ এবং জিআরপি-র বাহিনী সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল কর্তৃপক্ষ। নামানো হয় বুলডোজার বা আর্থ মুভার মেশিন।

[TECHTARANGA-POST:9326]

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলের পক্ষ থেকে তাঁদের মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকার মালপত্র সরানোর পর্যাপ্ত সুযোগটুকুই পাননি তাঁরা। চোখের সামনে রুজিরুটির একমাত্র উৎসটি ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। এক ফল ব্যবসায়ী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা চোর-ডাকাত নই, গত ২০-২৫ বছর ধরে এখানে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছি। রেল যদি কাজ করতেই চায়, তবে আমাদের অন্য কোথাও বসার একটু জায়গা দেওয়া উচিত ছিল। বিকল্প বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আমাদের এভাবে ভাতে মারার কোনও অধিকার রেলের নেই।”

[TECHTARANGA-POST:9325]

ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৩০টি ছোট-বড় দোকানের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দেড়শো মানুষের সংসার চলত। হঠাৎ করে দোকানগুলি ভেঙে দেওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল এই পরিবারগুলি। পুনর্বাসন এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষের সাফ কথা, সরকারি জমিতে কোনওরকম বেআইনি দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না এবং রেলের উন্নয়নমূলক কাজ নির্দিষ্ট সূচি মেনেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *