25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized ‘ভিটেমাটি ছেড়ে বাঁচার চেয়ে মৃত্যু ভালো!’ গলায় প্রতীকী ফাঁস, কোমর জলে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ আদিবাসীদের
Uncategorized

‘ভিটেমাটি ছেড়ে বাঁচার চেয়ে মৃত্যু ভালো!’ গলায় প্রতীকী ফাঁস, কোমর জলে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ আদিবাসীদের

Share
‘ভিটেমাটি ছেড়ে বাঁচার চেয়ে মৃত্যু ভালো!’ গলায় প্রতীকী ফাঁস, কোমর জলে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ আদিবাসীদের
ছবি সংগৃহীত
Share

কোমরসমান জলে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একাধিক আদিবাসী মহিলা। মাথার উপর লোহার কাঠামো, সেখান থেকে ঝুলছে দড়ি। প্রত্যেকের গলায় সেই দড়ির প্রতীকী ফাঁস। দেখে মনে হতে পারে, এ যেন গণ-আত্মহত্যার প্রস্তুতি। কিন্তু আসলে এটি বাঁচার অধিকার, জমি এবং পরিচয় রক্ষার লড়াই।

[TECHTARANGA-POST:10980]

মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এই অভিনব বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। দৌধন, মাঝগাঁও, রুঞ্জ এবং পান্না এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাঁদের গ্রাম জলের তলায় চলে যাবে এবং হাজার হাজার পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। বুন্দেলখণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই জলাভাবের সমস্যায় ভুগছে। সেই সমস্যার সমাধান করতেই কেন নদীর জল বেতওয়ায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানীয় জল ও সেচের সুবিধা পাবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে তাঁদের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে চলেছে। সরকার যে ক্ষতিপূরণের কথা বলছে, তা দিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ১২.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হলেও আন্দোলনকারীদের দাবি, অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা এবং যথাযথ পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

[TECHTARANGA-POST:10979]

তাঁদের আরও অভিযোগ, বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নাম এখনও পুনর্বাসনের তালিকায় নেই। প্রশাসনের তরফে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তার অধিকাংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। এই কারণেই ফের রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা। গত কয়েক মাসে কখনও ‘চিতা আন্দোলন’, কখনও ‘জল সত্যাগ্রহ’, কখনও অনশন – নানা ধরনের প্রতিবাদের সাক্ষী থেকেছে এই এলাকা। এবার সেই আন্দোলনের নতুন প্রতীক গলায় ফাঁস। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই লড়াই শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য নয়। এটি তাঁদের জমি, বন, সংস্কৃতি, জীবিকা এবং পূর্বপুরুষের স্মৃতি রক্ষার লড়াই। তাঁদের কথায়, ‘আমাদের কাছে জমি মানে শুধু সম্পত্তি নয়, এটাই আমাদের পরিচয়।’

[TECHTARANGA-POST:10975]

অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, নতুন সমীক্ষার ভিত্তিতে আরও কয়েকশো পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের জন্য অতিরিক্ত অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। তবু আন্দোলনকারীরা অনড়। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, ন্যায্য পুনর্বাসন ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা না মিললে এই আন্দোলন থামবে না।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *