০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home Uncategorized হড়পা বানের পর এবার মারাত্মক ভূমিধসের আতঙ্ক নেপালে!
Uncategorized

হড়পা বানের পর এবার মারাত্মক ভূমিধসের আতঙ্ক নেপালে!

Share
হড়পা বানের পর এবার মারাত্মক ভূমিধসের আতঙ্ক নেপালে!
নতুন করে ভূমি ধসে আতঙ্ক নেপালে। ছবি : এক্স
Share

কাঠমান্ডু : মারাত্মক হড়পা বানের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার পাহাড়ি নেপালে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল ভয়াবহ ভূমিধস। ধসের বিপুল ধ্বংসাবশেষ পড়ে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পাহাড়ি চৌলানি নদীর গতিপথ। 

পর্বতপ্রমাণ পাথর, কাদা ও মাটিতে নদীর একাংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি পথ বন্ধ হয়ে বিশাল জলরাশি জমে পুনরায় ‘সর্বগ্রাসী’ জলরোষ বা হড়পা বান আছড়ে পড়ার প্রাবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের সীমান্ত লাগোয়া বিস্তৃত নিম্নাঞ্চলে চরম সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালের ধারচুলা জেলার আপি হিমল গ্রামীণ পুরসভার অন্তর্গত ভাট্টার পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে এই বিশাল ধস নেমেছে। ধসের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও খোয়া সরাসরি গিয়ে পড়েছে পাহাড়ি নদী চৌলানিতে। স্থানীয়ভাবে এই নদিটি ‘চামেলিয়া’ নামেও পরিচিত। 

ধসের ধাক্কায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভৌগোলিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই স্পর্শকাতর অংশে পুনরায় ধস নামলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে নদীর উপরিভাগে বিশাল কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়ে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে নিম্ন অববাহিকায়।

ইতিমধ্যেই নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে (APF) দ্রুত ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। আপৎকালীন সহায়তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে নেপাল সশস্ত্র পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, চৌলানি নদীর জলপ্রবাহ আপাতত কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত বেশি। বালাঞ্চে অবস্থিত নেপাল চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিকারিক ও কর্মীরা এই ঘটনায় চরম উদ্বিগ্ন। কারণ, ধসের স্থানটি এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের উজানে হওয়ায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বড়সর ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, আপি হিমাল অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে এই চৌলানি নদী পরবর্তীতে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ফলে নেপালের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্বে ভোটেকোশী নদীর হড়পা বানের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভুলতে না পারা নেপালবাসী এখন প্রমাদ গুনছেন এই নতুন ধস ও সম্ভাব্য প্লাবনের আশঙ্কায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে নেপাল প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *